•  জ্যৈষ্ঠ১৪২৯  - সোমবার, মে ২৩, ২০২২

বিএনপিকে নির্মূলের ষড়যন্ত্র করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে নির্মূলের ষড়যন্ত্র করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

সরকার বিএনপিকে নির্মূল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সারা বিশ্বে আমরা চিহ্নিত হয়েছি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটা দেশ হিসেবে। সরকার এখন রাজনীতি তথা বিএনপিকে নির্মূল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।’

রাজধানীর গুলশানে শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে আজ রাজধানীতে ‘স্বাধীনতা শোভাযাত্রা’ এবং আগামীকাল চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধ নয়, ‘এক ব্যক্তি’ জন্মশতবার্ষিকীকে সরকার প্রাধান্য দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, তারা (সরকার) কতগুলো প্রোগ্রামে স্বাধীনতা যুদ্ধ-মুক্তিযুদ্ধকে সামনে নিয়ে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে যারা সেদিন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রবাসী সরকার, এমএজি ওসমানী সাহেব কবার তাদের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, সেক্টর কমান্ডারদের নাম কবার নেওয়া হয়েছে। তাজউদ্দীন আহমদের নাম কবার উচ্চারণ করা হয়েছে-সবাই তা দেখেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ কোথায় গেল? এখানে তো একজন ব্যক্তির ব্যাপারটা এসে যাচ্ছে সামনে।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি হালকা করে বলি, আওয়ামী লীগের একটা কেমেস্ট্রি বা রসায়ন আছে। তা হচ্ছে, আমি ছাড়া আর কেউ নেই। এক মেগো অদ্বিতীয়া। এটাই সমস্যা তাদের। খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকেও (খালেদা জিয়া) আজকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। ৪০ বছর ধরে যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, তাকে এই সরকার আটক করে রেখেছে। অসুস্থাবস্থায় তাকে চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দলের নেতা তারেক রহমানও ওই সময় তার ছোট ভাইসহ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বন্দি ছিলেন। তাই মুক্তিযুদ্ধে ওই ছোট মানুষটির অবদানও কারও অস্বীকার করার উপায় নেই। এই নেতাকে আজকে দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে আমরা মূল্যায়ন করে ২৭ মার্চ জাতীয় কমিটি শ্রদ্ধা নিবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বর্তমান সরকার তাদের সুবিধামতো করে প্রচার করছে। বিকৃত ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও বিষয়ভিত্তিক ঘটনাগুলো তুলে ধরছি জনগণের সামনে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু ও বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

অন্যান্য
ভ্রমন