• ১৫ অগ্রহায়ণ১৪২৯  - মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৯, ২০২২

মাথা বুকে আঘাত করে ফারদিনকে হত্যা

মাথা বুকে আঘাত করে ফারদিনকে হত্যা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রেমঘটিত বিষয়কে ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, তার মাথা ও বুকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি হত্যাকাণ্ড।

মেধাবী এ শিক্ষার্থীর স্বজন ও সহপাঠীরাও একই দাবি করেছেন। মঙ্গলবার ফারদিন হত্যার বিচার দাবিতে বুয়েটে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

জানা যায়, ৪ নভেম্বর ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার পর ৫ নভেম্বর রামপুরা থানায় জিডি হয়। বুয়েটের শিক্ষার্থী হওয়ায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে। কিন্তু সোমবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ফারদিনের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের তৎপরতা কমে যায়। শুরু হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‌্যাবের তৎপরতা। এরই মধ্যে ফারদিনের বান্ধবী ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী বুশরা ও তার আরেক বন্ধু শীর্ষ সংশপ্তকে আটক করেছে ডিবি। এছাড়া ফারদিনের স্বজনসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব। এরই অংশ হিসাবে ফারদিনের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বাবুকেও র‌্যাব কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছে।

নিখোঁজের পর বুশরাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সোমবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর বুশরা ও সংশপ্তকে ফের ডেকে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা দুইজনকে আটক করেছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, নারীঘটিত কোনো বিষয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের এখনো বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা আপাতত জিডির সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছি। যেহেতু নারায়ণগঞ্জ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাই সেখানে মামলা হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি রাজিব আল মাসুদ জানান, ফারদিন খুনের ঘটনায় ডিবির একাধিক টিম কাজ করছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ফারদিনের মোবাইল ফোনের লোকেশন চেক করে দেখা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিচরণ ছিল। তবে তা ফারদিনসহ নাকি তার মোবাইল অন্য কেউ বহন করেছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে র‌্যাবের একাধিক টিম।

ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা যুগান্তরকে বলেন, কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, সে সম্পর্কে আমাদের ধরণা নেই। আমার কোনো শত্রু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি কারও কোনো ক্ষতি করিনি। আমি সাংবাদিকতা করেছি, এমন কোনো রিপোর্ট করিনি যাতে কেউ আহত হতে পারে।


ভ্রমন