•  জ্যৈষ্ঠ১৪২৯  - সোমবার, মে ২৩, ২০২২

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়জয়কার

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়জয়কার

সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ১৩৮টি ইউপির মধ্যে ১৩২টির বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা মাত্র ৪২টি বা ৩১.৮১ শতাংশ ইউপিতে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রতীকের প্রার্থীরা জিতেছেন ৮৬টি বা ৬৫.১৫ শতাংশ ইউপিতে।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে জয়ী ৪২ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন জয়ী হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোট ছাড়াই। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি তিনটি এবং জেপির প্রার্থীরা একটি ইউপিতে জয়ী হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পাওয়া এ ধাপের নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা যায়।

কমিশন সচিবালয় নির্বাচন স্থগিত থাকার কারণে বাকি ছয়টি ইউপির ফলাফলের তথ্য জানায়নি। এ ছয়টি ইউপির মধ্যে কুমিল্লার দেবীদ্বারের ভানী ইউপিতে ভোটের ১১ ঘণ্টা আগে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

এ ধাপের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ইটনার ৯টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ কাউকে নৌকা প্রতীক দেয়নি। এই ৯টি ইউপিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচটিতে জয় পেয়েছেন। অন্য চারটির মধ্যে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটিতে এবং একজন দলনিরপেক্ষ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সপ্তম ধাপের এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৯১.৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউপিতি। ৩২টি ইউপিতে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। আর সর্বনিম্ন ৫৫.৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতীতে।

কমিশন সচিবালয় আগেই জানিয়েছিল, এ ধাপে ১১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও নারীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৩ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৪৭ জন একক প্রার্থী হিসেবে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এবারে তৃণমূল পর্যায়ের এই স্থানীয় সরকারের বড় পরিসরের সাধারণ নির্বাচন শেষ হয়েছে। কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিদায়ি নির্বাচন কমিশন এ ধাপের নির্বাচনকেই তাদের শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠান ঘোষণা করেও পরে আরো একটি ধাপে আটটি ইউপির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে। এ নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পূর্তির চার দিন আগে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি অষ্টম ধাপের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিনা ভোটের রেকর্ড : সব মিলিয়ে এবারের সাত ধাপের ইউপি নির্বাচনে বিনা ভোটে জনপ্রতিনিধি হওয়ার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এ পর্যন্ত বিনা ভোটে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন এক হাজার ৭২৩ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৬৯ জন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের ৩৬৫ জন। এ ছাড়া নারীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৯৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৯৫৮ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মোট সাত ধাপের নির্বাচনে তিন হাজার ৯৫৮ ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দুই হাজার ১৩৪টিতে জয়ী হন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন এক হাজার ৬৯৫টি ইউপিতে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এবারে সহিংসতা বেশি : এবারের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১১৫ জন। নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে এর আগে ইউপি নির্বাচনের সহিংসতায় ১৯৮৮ সালে ৮০ জন, ১৯৯৭ সালে ৩১ জন, ২০০৩ সালে ৮৩ জন, ২০১১ সালে ১০ জন, ২০১৬ সালে ১০৮ জন নিহত হন।

আগের ছয় ধাপের ফলাফল : গত সোমবার সপ্তম ধাপের ভোটের আগে গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের দুই দফায় ৩৬৫টি এবং গত ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৩টি, গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপিতে, চতুর্থ ধাপে গত ২৬ ডিসেম্বর ৮৩৬ ইউপিতে এবং পঞ্চম ধাপে গত ৫ জানুয়ারি ৭০৭ ইউপিতে ভোটগ্রহণ হয়। সপ্তম ধাপে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮ ইউপিতে এবং শেষ ধাপে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আটটি ইউপির ভোট হবে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবেও আগে স্থগিত থাকা কয়েকটি ইউপির ভোট হয়।

দুই দফায় অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন, ৭৩.৪৮ শতাংশ ইউপিতে। এরপর ষষ্ঠ ধাপ ছাড়া অন্য ধাপের ভোটে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ের হার ক্রমেই কমতে থাকে। দ্বিতীয় ধাপে ৫৮.২৭ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৫২.৯২ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৪৯.৭৪ শতাংশ, পঞ্চম ধাপে ৪৯.৬৭, ষষ্ঠ ধাপে ৫৪.১৬ শতাংশ এবং সপ্তম ধাপে ৩১.৮১ শতাংশ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হন।

২০১৬ সালের ফলাফল
নির্বাচন কমিশনের তথ্য, এর আগে ২০১৬ সালে চার হাজার ২৭০টি ইউপিতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা হয়। কিন্তু ওই বছর আইনি জটিলতার কারণে ছয় ধাপে তিন হাজার ৯৮১টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হয়। দেশে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকের ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই হাজার ৬৫২টি, বিএনপি ৩৬৭টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮৮৯টি এবং অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বাকি ইউপিগুলোতে জয় পান।

অন্যান্য
ভ্রমন