•  জ্যৈষ্ঠ১৪২৯  - সোমবার, মে ২৩, ২০২২

অপপ্রচারের জবাব দিতে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

অপপ্রচারের জবাব দিতে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানো ও বিরোধীদের অপপ্রচারের জবাব দিতে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা কাজ শুরু করবেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা ও অপ্রচারের জবাব দেবেন তারা।

মঙ্গলবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সভায় এমন নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন এখনো বাকি আছে সেগুলো দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দেন। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে করোনার বিধিনিষেধ রয়েছে। এই সময়ের পরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আট বিভাগের জন্য গঠিত আট সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা তাদের কাজ শুরু করবেন।

সভায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক বিভাগে যাওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজাতে হবে। এর মধ্য দিয়ে দলের ভেতরে যেসব আগাছা আছে, তা উপড়ে ফেলতে হবে। নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকলে তা দূর করে তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা ও অপ্রচারের জবাব দিতে হবে। মানুষের কাছে গিয়ে সত্যটা তুলে ধরতে হবে।

সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ কয়েকটি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় এসব নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ অন্য সব নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বিদ্রোহী বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি আগের মতোই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেছে, তারা আগামীতে কোনো নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাবে না। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও তাদের রাখা হবে না। দলের তো একটা শৃঙ্খলা থাকতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে চারটায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্যাহ, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির কাছে নাম জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কীভাবে এই নাম পাঠানো যায় তা সবার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, সবার কাছ থেকে ১০টি করে নাম নেওয়ার। এ সময় তাদের ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর প্রত্যেক সদস্য কাগজে লিখে ১০টি করে নাম দলীয় সভাপতির কাছে জমা দেন। প্রস্তাবকৃত নামের মধ্য থেকে কমন নাম পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। তবে উপস্থিত নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন-নাম পাঠানোর বিষয়ে আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত।

সূত্র জানায়, পৃথক পৃথক নাম দেওয়া হলেও ৪০-৪৫ জনের তালিকা দলীয় সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই নাম থেকে ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা পাঠানো হবে সার্চ কমিটিতে। ইসিতে বসাতে যেসব নাম পাওয়া গেছে এসবগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন-সাবেক প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, সাবেক সচিব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনরা।

অন্যান্য
ভ্রমন