• ১৫ অগ্রহায়ণ১৪২৯  - মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৯, ২০২২

সিলেটে আওয়ামী লীগের আতঙ্ক বিদ্রোহী

সিলেটে আওয়ামী লীগের আতঙ্ক বিদ্রোহী

সিলেটের জগন্নাথপুর ও ওসমানীনগর উপজেলা এবং বিশ্বনাথ পৌরসভার নির্বাচন আগামী বুধবার। এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে না নামলেও চেয়ারম্যানপদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের লড়াইয়ে বিএনপি নেতারা সিরিয়াস। হাইকমান্ডের নিষেধ ও নির্দেশনা তারা কানেই নিচ্ছেন না। দলের শীর্ষ পদ ছুড়ে ফেলে তারা প্রার্থী হয়েছেন। এদিকে, দলের বিদ্রোহীরা নৌকার প্রার্থীদের কাছে রীতিমতো আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন। আজ সোমবার রাত ১২টার পর প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের একদিন বাকি থাকতে তাই প্রার্থীরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকার প্রার্থীদের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন প্রবাসী স্বজনরা। প্রার্থী ও দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে প্রবাসী জোগানদাতাদের কাছেও নির্বাচন বিরাট একটা প্রেস্টিজ ইস্যু। চলছে টাকার খেলা। রয়েছে প্রার্থী ম্যানেজ, ভোট কেনাবেচার গুঞ্জন, অভিযোগ। ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ (ভিপি শামীম)। তার সঙ্গে ভোটযুদ্ধে আছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম। ঘোড়া প্রতীকে তিনি নির্বাচন করছেন। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, প্রতীক যেমন ঘোড়া প্রার্থী কামরুলের দৌড়ও ঠিক তেমন। স্থানীয় বিএনপি কামরুলের সঙ্গে। তাকে সমর্থন করে অনেকটা প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করে ভোট প্রার্থনা করছেন বিএনপির দায়িত্বশীলরাও। কামরুল ইসলাম বলেন, দলীয় পদ ইস্তফা দিয়ে মাঠে নেমেছি। দলীয় পদ-পদবি নিয়ে কারা কাছে ভোট চাইনি। এ ছাড়া নির্বাচনি মাঠে বিএনপির আরও চার প্রার্থী আছেন। তারা হলেন-ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গয়াছ মিয়া (চশমা), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল মিয়া (টিউবওয়েল), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির মহিলা সম্পাদিকা মুসলিমা আক্তার চৌধুরী (সেলাই মিশিন) ও বিএনপি নেত্রী জাহানারা বেগম (কলস)।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিন প্রবাসী। টাকার খেলাও চলছে বেশ। প্রার্থী ম্যানেজ, ভোট কেনাবেচার গুঞ্জন, অভিযোগ মুখে মুখে। ওখানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বীদের পাশ ঠেলে শীর্ষ সারিতে চলে এসেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক এক প্রবাসী। খেজুর গাছ প্রতিকের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম নির্বাচন কমিশনে সোয়া চার কোটি টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। নির্বাচনে নানা কারণে শাসক দল আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিতে পারেনি। নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন। পাশাপাশি মাঠে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা। বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান দলীয় পরিচয় ছাড়াই প্রার্থী হয়েছেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

বিশ্বনাথ পৌর চেয়ারম্যান পদে এগিয়ে বিএনপি। এরপর আছে আওয়ামী লীগ ও ইসলামী দলগুলো। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই নেতা প্রার্থী হলেও বিএনপির তিনজন লড়ছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি দলীয় পদ ছুড়ে দিয়ে মরণ কামড় দিয়েছেন। ওখানে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আওয়ামী লীগে কিছুটা স্বস্তিতে থাকার কথা ছিল। তবে বরাবরই দলে বিদ্রোহী হয়ে আসা সাবেক উপজেলা মুহিবুর রহমান স্বস্তি দিচ্ছেন না। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ (নৌকা), আওয়ামী লীগ নেতা মুহিবুর রহমান (জগ), উপজেলা বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন (হ্যাঙ্গার), যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুমিন খান মুন্না (মোবাইল ফোন), যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা সফিক উদ্দিন (নারিকেল গাছ), উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ (খেজুর গাছ) ও উপজেলা আল ইসলাহের সভাপতি ফয়জুল ইসলাম (চামচ)।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুহিবুর বলেন, পৌরসভায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ যাতে কেউ লুটপাট করতে না পারে সেজন্যই প্রার্থী হয়েছি। তার ভাষায়, ‘পুলিং অফিসারকে মালটাল দিয়ে ঠিক করতে পারলে কিছু লুটেরা গোষ্ঠী কিছু ভোট নিয়ে যেতে পারে। এজন্য সব সেন্টারে প্রেসের মানুষ থাকার অনুরোধ করেন তিনি।’ অতীতের পার্লামেন্ট নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আমাকে বলেছিলেন, ভোট পাবেন আপনি। কিন্তু পাশ করব আমি! পরবর্তীতে দেখি সত্যিই সে পাশ করেছে!’


ভ্রমন