•  জ্যৈষ্ঠ১৪২৯  - সোমবার, মে ২৩, ২০২২

শেয়ারবাজারে ইতিহাস সৃষ্টি করলো সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স

শেয়ারবাজারে ইতিহাস সৃষ্টি করলো সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা ২১ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে দেশের শেয়ারবাজারে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স। তবে কেন শেয়ারের এমন দাম বাড়ছে তার কারণ জানা নেই কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষের।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে ৫ ডিসেম্বর কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষকে নোটিশ করা হয়।

ডিএসইর নোটিশের প্রেক্ষিতে সেনা কল্যাণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন নিয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করে নতুন প্রজন্মের সাধারণ বীমা কোম্পানি সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স। এ জন্য ১০ টাকা করে কোম্পানিটি ১ কোটি ৬০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে।

আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলন করা অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ, নিজস্ব অফিস স্পেস ক্রয়, তফসিলি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

আইপিও আবেদনকারীদের শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার পর গত ৭ নভেম্বর থেকে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয়। এরপর ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ২১ কার্যদিবস কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে।

দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এর আগে কোনো কোম্পানির শেয়ার দাম টানা ২১ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করতে পারেনি। টানা ২১ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে।

এর ফলে টানা ২২ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করার অনন্য রেকর্ড করলো এই সাধারণ বীমা কোম্পানিটি। এতে কোম্পানিটির ১০ টাকার শেয়ার এখন ৭৯ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের সম্প্রতি চলমান হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসের (চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মুনাফায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই নয় মাসের ব্যবসায় কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি মুনাফা করেছে ৩ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৭ পয়সা।

অপরদিকে আইপিও অনুমোদন পেতে করা আবেদনের সময় কোম্পানিটির জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে পুনঃমূল্যায়ণ ছাড়া শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ২১ টাকা ৯ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয় ৩ টাকা ৯৩ পয়সা। আর বিগত পাঁচ বছরের ভারিত গড় হারে মুনাফা হয় ২ টাকা ৬৫ পয়সা।

এ হিসাবে পুঁজিবাজারে আসার পর কোম্পানিটির মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যান্য
ভ্রমন