এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত নভেম্বরে বিদ্যমান স্কিমের আওতায় প্রবাসী শ্রমিকদের পূর্ণ বীমা সুবিধা দেওয়াসহ; এটির পরিধি বাড়িয়ে আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে একটি বৈঠক করেছে।

সভায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে জীবন বীমা করপোরেশনের বিদ্যমান স্কিমে নতুন সেবার অন্তর্ভুক্তি এবং পরিধি বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব দেশে হেল্প ডেস্কের অভাব এবং সুবিধাদির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রসারের অনুপস্থিতিকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, সার্ভিস পয়েন্ট না থাকার ফলেই প্রবাসীরা তাদের দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানীর বীমা দাবি করতে পারেননি।

দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বীমা সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারায়, বীমা নবায়নে প্রবাসীদের তেমন আগ্রহ নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বীমা শাখার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রবাসে প্রতিবছর কী পরিমাণ শ্রমিক কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার হন, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবছর সৌদি আরব থেকেই সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পায় বাংলাদেশ, গত অর্থবছরে দেশটি থেকে প্রবাসী কর্মীরা ৬৩৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ আয় দেশে পাঠান। যা ছিল মোট রেমিট্যান্সের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইন বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের শীর্ষ ১০টি উৎসের মধ্যে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যা বিদেশে কর্মরত জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ।

জীবন বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেন, বিদেশে আহতদের বিষয়ে তথ্যের অপর্যাপ্ততা হয়েছে। আহত কোনো প্রবাসী ক্ষতিপূরণের জন্য এখনো আবেদন করেনি। যারা মারা যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততার সাথে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও জানান, প্রবাসী কর্মীদের কেউ দুর্ঘটনায় আহত হলেও, তার আবেদন করার উপযুক্ত কোনো স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। যেসব দেশে প্রবাসীরা যাচ্ছেন, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসে জীবন বীমা করপোরেশনের কোন হেল্প ডেস্ক নেই। ফলে প্রবাসীরা কোথায় আবেদন করবেন, তা সুনির্দিষ্ট নয়।

'আর বাংলাদেশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা জীবন বীমা করপোরেশন অফিসে কেউ আবেদন করলেও; আবেদনকারী সত্যিকার অর্থেই কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত কিংবা অঙ্গহানী হয়েছেন কিনা, তা বাংলাদেশ থেকে যাচাই-বাছাই করার কোন উপায় নেই। ফলে আহতরা এ বীমা থেকে সুবিধা পাচ্ছেন না'- বলে জানান একজন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবন বীমা করপোরেশনের এমডি জহুরুল হক বলেন, "প্রবাসীদের কল্যাণে চালু করা বীমাটির বয়স দুই বছর হতে চলেছে। বীমাটির বিষয়ে এখনো মূল্যায়নের সময় আসেনি। তবে করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পূর্ণ বীমা সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ হারুন পাশার সভাপতিত্বে বৈঠক হয়।

সভায় তিনি বলেছেন, যে কয়েকটি বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে, তার সবই মৃত্যুদাবি। 'প্রবাসী কর্মী বীমা'র সুবিধাদির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রসারের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে প্রবাসীদের বীমা সার্ভিস দেওয়ার জন্য কোন হেল্প ডেস্ক না থাকায়; দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানীর বীমা দাবি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থাপিত হয়নি বলে মনে হচ্ছে।

তিনি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে জীবন বীমা করপোরেশনের হেল্প ডেস্ক খোলার বিষয়টি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাখার পরামর্শ দেন।

প্রস্তাবিত নতুন বীমা স্কিমের আওতায় প্রবাসীদের থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা প্রিমিয়াম নিলে, বিদেশে যাওয়ার খরচ বাড়বে কিনা- জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক  বলেন, "বীমা কখনো বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত নয়। বিশ্বব্যাপী সব ধরনের বীমাই ঐচ্ছিক। তাই প্রবাসী বীমাও ঐচ্ছিক হওয়া উচিত।"

এজন্য সৌদি কোম্পানিগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন বীমা চালুর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে নিবিড় সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রবাসীরা বীমার সকল সুবিধা পাচ্ছেন কিনা- সেটি নিশ্চিত করতে যথাযথ নজরদারির প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।

বীমা প্রিমিয়াম বাড়াতে চায় জীবন বীমা করপোরেশন

বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী কর্মীকে বীমা সুবিধার আওতায় আনতে চায় জীবন বীমা করপোরেশন। ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রবাসী কর্মী বীমা চালুর পর থেকে যেসব কর্মী বিদেশে গেছেন, এখন তারাই শুধু বীমার আওতায় রয়েছেন।

প্রবাসী কর্মী বীমার সব সুযোগ-সুবিধা অপরিবর্তিত রেখে বয়সভিত্তিক দুই শ্রেণির পৃথক পৃথক প্রিমিয়াম নির্ধারনের প্রস্তাব করেছে কর্পোরেশন। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বীমা কোম্পানিটি।

বর্তমানে প্রবাসী কর্মী বীমায় সবার ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ৯৯০ টাকা, যার মধ্যে প্রবাসীরা ৪৯০ টাকা পরিশোধ করে, বাকি ৫০০ টাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসীর পক্ষে পরিশোধ করে থাকে।

প্রবাসীদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮-৪০ বছরের মধ্যে, তাদের তাদের জন্য বীমার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং যাদের বয়স ৪১-৫৮ বছর তাদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে জীবন বীমা করপোরেশন।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বৈশ্বিক মহামারির কারণে বীমা গ্রাহকদের মৃত্যু ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় প্রিমিয়াম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

" />
  •  জ্যৈষ্ঠ১৪২৯  - সোমবার, মে ২৩, ২০২২

চড়া বীমা ফির কারণে বিদেশযাত্রার খরচ বাড়তে চলেছে

চড়া বীমা ফির কারণে বিদেশযাত্রার খরচ বাড়তে চলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশনের বিদ্যমান একটি বীমা স্কিম প্রবাসী কর্মীদের তেমন সাহায্য করতে পারছে না। এ অবস্থায় সরকারি সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত সকল বাংলাদেশির মৃত্যু ও কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার বিপরীতে সৌদি আরবের একটি কোম্পানির সাথে চুক্তির উদ্যোগ নিচ্ছে।  

এর আগে দুই বছর মেয়াদি 'প্রবাসী কর্মী বীমা'র আওতায় থাকা মৃত শ্রমিকদের নমিনিরাই কেবল বীমা দাবির অর্থ পান। চলতি মাসের শেষদিকে এ বীমার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।  তবে এখন পর্যন্ত এর আওতায় আহত ও অঙ্গহানীর শিকার হওয়া শ্রমিকরা কোনোপ্রকার ক্ষতিপূরণ পাননি।  

জীবন বীমা করপোরেশনের তথ্যানুসারে, গত অক্টোবর পর্যন্ত ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৯৭ জন প্রবাসী বীমা পলিসি করেছেন। প্রিমিয়াম বাবদ তারা জমা দিয়েছেন ৪০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী ৫৪ কর্মীর পরিবারকে বীমা দাবি হিসেবে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে জীবন বীমা করপোরেশন।

প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের পরিবারের আর্থিক  দুর্দশা লাঘব ও দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অঙ্গহানি হওয়া শ্রমিকদের সুচিকিৎসার অর্থ যোগান নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে 'প্রবাসী কর্মী বীমা'  উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই বীমা পলিসির অধীনে, এককালীন ৪৯০ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে প্রবাসী কর্মীদের ৪ লাখ টাকা বীমা কাভারেজ পাওয়ার কথা।  

কিন্তু, সৌদি কোম্পানিটির প্রস্তাবিত নতুন স্কিমের আওতায় আসতে প্রবাসী কর্মীদের সাড়ে ৪ হাজার টাকা এককালীন প্রিমিয়াম দিতে হবে। এখানে মৃত্যুঝুঁকির বিপরীতে ১০ লাখ টাকা বীমা দাবি্র সুবিধা থাকবে। এর পাশাপাশি ২০টি প্রধান রোগের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা, দুর্ঘটনাজনিত কারণে অঙ্গহানি/অক্ষমতা এবং মৃতদেহ দেশে আনার ব্যয়বহনের সুবিধা থাকবে।

বীমার শর্তে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত কারণে বীমার মেয়াদকালে বা মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পাবেন প্রবাসী কর্মীরা।

জীবন বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, চলতি ডিসেম্বরেই ঢাকা আসবেন সৌদি এরাবিয়ান কো-অপারেটিভ ইন্সুরেন্স কোম্পানির (সাইকো) প্রতিনিধিরা। তখন কোম্পানিটির সাথে সরকারি সংস্থাটি চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করবে।

করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জহুরুল হক বলেন, "সাইকো যে প্রিমিয়াম প্রস্তাব করেছে, তা অনেক বেশি। আমরা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছি। তাদের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসলে, সে বিষয়ে আলোচনার পরই চুড়ান্ত হবে।"

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত নভেম্বরে বিদ্যমান স্কিমের আওতায় প্রবাসী শ্রমিকদের পূর্ণ বীমা সুবিধা দেওয়াসহ; এটির পরিধি বাড়িয়ে আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে একটি বৈঠক করেছে।

সভায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে জীবন বীমা করপোরেশনের বিদ্যমান স্কিমে নতুন সেবার অন্তর্ভুক্তি এবং পরিধি বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব দেশে হেল্প ডেস্কের অভাব এবং সুবিধাদির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রসারের অনুপস্থিতিকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, সার্ভিস পয়েন্ট না থাকার ফলেই প্রবাসীরা তাদের দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানীর বীমা দাবি করতে পারেননি।

দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বীমা সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারায়, বীমা নবায়নে প্রবাসীদের তেমন আগ্রহ নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বীমা শাখার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রবাসে প্রতিবছর কী পরিমাণ শ্রমিক কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার হন, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবছর সৌদি আরব থেকেই সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পায় বাংলাদেশ, গত অর্থবছরে দেশটি থেকে প্রবাসী কর্মীরা ৬৩৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ আয় দেশে পাঠান। যা ছিল মোট রেমিট্যান্সের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইন বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের শীর্ষ ১০টি উৎসের মধ্যে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যা বিদেশে কর্মরত জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ।

জীবন বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেন, বিদেশে আহতদের বিষয়ে তথ্যের অপর্যাপ্ততা হয়েছে। আহত কোনো প্রবাসী ক্ষতিপূরণের জন্য এখনো আবেদন করেনি। যারা মারা যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততার সাথে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও জানান, প্রবাসী কর্মীদের কেউ দুর্ঘটনায় আহত হলেও, তার আবেদন করার উপযুক্ত কোনো স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। যেসব দেশে প্রবাসীরা যাচ্ছেন, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসে জীবন বীমা করপোরেশনের কোন হেল্প ডেস্ক নেই। ফলে প্রবাসীরা কোথায় আবেদন করবেন, তা সুনির্দিষ্ট নয়।

'আর বাংলাদেশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা জীবন বীমা করপোরেশন অফিসে কেউ আবেদন করলেও; আবেদনকারী সত্যিকার অর্থেই কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত কিংবা অঙ্গহানী হয়েছেন কিনা, তা বাংলাদেশ থেকে যাচাই-বাছাই করার কোন উপায় নেই। ফলে আহতরা এ বীমা থেকে সুবিধা পাচ্ছেন না'- বলে জানান একজন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবন বীমা করপোরেশনের এমডি জহুরুল হক বলেন, "প্রবাসীদের কল্যাণে চালু করা বীমাটির বয়স দুই বছর হতে চলেছে। বীমাটির বিষয়ে এখনো মূল্যায়নের সময় আসেনি। তবে করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পূর্ণ বীমা সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ হারুন পাশার সভাপতিত্বে বৈঠক হয়।

সভায় তিনি বলেছেন, যে কয়েকটি বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে, তার সবই মৃত্যুদাবি। 'প্রবাসী কর্মী বীমা'র সুবিধাদির বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রসারের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে প্রবাসীদের বীমা সার্ভিস দেওয়ার জন্য কোন হেল্প ডেস্ক না থাকায়; দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানীর বীমা দাবি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থাপিত হয়নি বলে মনে হচ্ছে।

তিনি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে জীবন বীমা করপোরেশনের হেল্প ডেস্ক খোলার বিষয়টি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রাখার পরামর্শ দেন।

প্রস্তাবিত নতুন বীমা স্কিমের আওতায় প্রবাসীদের থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা প্রিমিয়াম নিলে, বিদেশে যাওয়ার খরচ বাড়বে কিনা- জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক  বলেন, "বীমা কখনো বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত নয়। বিশ্বব্যাপী সব ধরনের বীমাই ঐচ্ছিক। তাই প্রবাসী বীমাও ঐচ্ছিক হওয়া উচিত।"

এজন্য সৌদি কোম্পানিগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন বীমা চালুর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে নিবিড় সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রবাসীরা বীমার সকল সুবিধা পাচ্ছেন কিনা- সেটি নিশ্চিত করতে যথাযথ নজরদারির প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।

বীমা প্রিমিয়াম বাড়াতে চায় জীবন বীমা করপোরেশন

বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী কর্মীকে বীমা সুবিধার আওতায় আনতে চায় জীবন বীমা করপোরেশন। ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রবাসী কর্মী বীমা চালুর পর থেকে যেসব কর্মী বিদেশে গেছেন, এখন তারাই শুধু বীমার আওতায় রয়েছেন।

প্রবাসী কর্মী বীমার সব সুযোগ-সুবিধা অপরিবর্তিত রেখে বয়সভিত্তিক দুই শ্রেণির পৃথক পৃথক প্রিমিয়াম নির্ধারনের প্রস্তাব করেছে কর্পোরেশন। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বীমা কোম্পানিটি।

বর্তমানে প্রবাসী কর্মী বীমায় সবার ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ৯৯০ টাকা, যার মধ্যে প্রবাসীরা ৪৯০ টাকা পরিশোধ করে, বাকি ৫০০ টাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসীর পক্ষে পরিশোধ করে থাকে।

প্রবাসীদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮-৪০ বছরের মধ্যে, তাদের তাদের জন্য বীমার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং যাদের বয়স ৪১-৫৮ বছর তাদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে জীবন বীমা করপোরেশন।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বৈশ্বিক মহামারির কারণে বীমা গ্রাহকদের মৃত্যু ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় প্রিমিয়াম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যান্য
ভ্রমন