ওয়াদা করুন নৌকায় ভোট দেবেন: খুলনাবাসীকে প্রধানমন্ত্রী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবার খুলনাবাসীকে নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা করালেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এসময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকার জয় হবে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। ইনশাল্লাহ্।’

শেখ হাসিনা ভাষণে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আপনাদের বলতে চাই, নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আজ দেশে উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চাইলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। তাহলেই ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলতে পারবো।’

‘আপনারা ওয়াদা করুন- নৌকায় ভোট দেবেন’- হাজার হাজার জনতা এসময় হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানে সাড়া দেয়।

শনিবার (৩ মার্চ) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে এক জনসভায় দেয়া ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি থেকে শত্রু বিতাড়নে ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমরা সেটি করে দেখাচ্ছি। আমরা বিজয়ী জাতি, বীরের জাতি। আজ আমি আপনাদের (খুলনাবাসী) সামনে হাজির হয়েছি। গত নির্বাচনের আগে এসেছিলাম, ওয়াদা করেছিলাম। খুলনায় আজকে আপনাদের জন্য ১০০ প্রকল্পের মধ্যে ৪৮টি উদ্ধোধন করেছি। ৫২টি প্রকল্পের আমরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। খুলনার সার্বিক উন্নতির জন্য ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করে দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবন করেছি। জুট মিল থেকে আমরা উৎপাদন শুরু করে দিয়েছি। শুধু তাই না বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা, রাস্তাঘাট করেছি। খুলনা হয়ে বাগেরহাট হয়ে মংলা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন যাবে, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। জনগণের কল্যাণ হবে আমরা এমন কাজ করছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক স্তরে বছরের প্রথম দিন ৩৫ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ১৯৩টি বই বিনা পয়সায় ছেলে মেয়েদের হাতে তুলে দিয়েছি। স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থেকে বিনা পয়সায় সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের ঘর নাই তাদের ঘরবাড়ি করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন কোন যুবক যদি বিদেশে যেতে চায় তাহলে তার ঘরবাড়ি ভিটেমাটি বিক্রি করতে হবে না। তার জন্য লোনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য দেশে বেশি করে ফসল ফলানো। তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা করেছি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রী বৃত্তি পাচ্ছে তাদের মায়েদের মোবাইল একাউন্টের মাধ্যমে। আমার সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যেন একটি টাকাও নষ্ট না হয়।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে মোবাইল ফোন এনেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এর আগে কারো হাতে কোনো মোবাইল ফোনটা ছিলো না। আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ইন্টারনেট মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সেবা দিচ্ছি।’

এসময় তিনি বলেন, ‘আপনাদের একটা সুখবর দিতে চাই, নতুন গ্যাসের খনি পাওয়া গেছে। এই গ্যাস পাইপলাইনে করে বরিশাল এবং ভোলার মানুষ যেন ব্যবহার করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করে দেবো।’

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি কি করে? জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা, মানুষ হত্যা করা, মানুষকে খুন করা, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা, ছেলের মাকে সামনে হত্যা করা- এসব ছাড়া তারা আর কি দিয়েছে জাতিকে। বিএনপি সরকারে থাকাকালে সাংবাদিকদের সভাপতি মানিক সাহাকে হত্যা করেছে। ২০০৩ সালে কামরুল ইসলামের পুত্রকে হত্যা করেছে। আবু তাহের, ইসলাম ও চান মিয়া সিকদারকে কিভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এই খুলনায় তা আপনারা দেখেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কঠোর হাতে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমন করেছি।’

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ছেলেমেয়ে কোথায় যায়, স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে তারা কখনও অনুপস্থিত আছে কিনা, তারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত কিনা, সেটা আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের যুবসমাজ যেন কখনও সন্ত্রসী, জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত হতে না পারে। আমরা শান্তি চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমার সরকারের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। ইনশাল্লাহ্ ২০২১ সালের মধ্যে কোনো ঘরে অন্ধকার থাকবে না। সব ঘরে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। আমরা উন্নয়নে করতে চাই। আর অপর দিকে বিএনপি কী করে তা আপনারা সবাই জানেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন ঠেকানোর নামে খালেদা জিয়া তার নিজের অফিসে বসে থাকেন। তিনি নাকি সরকারকে বিদায় না করে ঘরে ফিরবেন না। অফিসে বসে তিনি বিরানী খান আর হুকুম দেন। বাবা চোখের সামনে তাকে তার ছেলেকে পুড়ে যেতে দেখছে। কিন্তু কিছুই করতে পারে নাই। গাড়ির ড্রাইভার, বাসের ড্রাইভার, ট্রাকের ড্রাইভার কাউকে বাদ দেয় নাই। ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছে।  পুলিশ হত্যা করেছে। বিজিবি হত্যা করেছে। সব পথ বন্ধ করে সাতক্ষীরা সরকারি অফিস আগুনে পুড়িয়েছে।’

বিএনপি শুধু ধ্বংস করতে জানে সৃষ্টি করতে নয়- মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যখন বেতন বাড়িয়েছিলাম তখন কর্মকর্তারা নিজেরা একদিনের বেতন দিয়েছে। এক দিনের বেতন দেয়ার জন্য যারা ব্যবস্থা করে দিয়েছে আমি তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে আর সেটাই দেখতে চাই। সেজন্যই কাজ করতে চাই।’

বেগম জিয়ার দুর্নীতি মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকের খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছে বলেই তাঁর শাস্তি হয়েছে। যে কেউ দুর্নীতি করুক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। আমরা সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী করতে চাই।’

এসময় খুলনাবাসীকে দুই হাত তুলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার ওয়াদা করান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি সার্কিট হাউস মাঠে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ৯৯টি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরীর খালিশপুরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ৫৮তম কনভেনশনে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

জনসভায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি,আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাবেক মন্ত্রী দীপু মণি, সাবেক ফুটবলার ও ব্যবসায়ী নেতা সালাম মুর্শেদী, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক,আব্দুর রহমান এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি, এম মোজাম্মেল হক এমপি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, সালমান এফ রহমান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ,ফ,ম, রুহল হক এমপি, সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এমপিসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ।

জনসভা পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল।

সম্প্রতি সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীর জনসভায়ও জনতাকে নৌকায় ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Share.