দেশ ত্যাগ করবে বহিষ্কৃত ক্ষুদে বিজ্ঞানী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় সেই দে‌শে প‌রীক্ষার সময় পেন‌সিল দি‌য়ে প্রশ্নপ‌ত্রে দাগ দেওয়ার অপরা‌ধে য‌দি একজন মেধাবী কি‌শোর বিজ্ঞানী‌কে ব‌হিস্কার করা হয় সেটা চরম বেদনায়ক।ক্ষুদে এই ‌কি‌শোর বিজ্ঞানীর নাম তারিক আমিন চৌধুরী। স্বপ্ন ছিল তাঁর ন্যাশনাল এ্যরোনটিকস এন্ড স্পেস এডমিনিস্ট্রেশনে (নাসা) কাজ করার। ইতমে‌ধ্যেই নয়বার রোবোটিকসে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সে। এছাড়া সে মাইন্ড ওয়েব ডিভাইস আবিষ্কার করে আলোচনায় আসে। বিএমসি সুপার স্মার্ট বাল্ব আবিষ্কার করে পত্রিকার শিরোনামও হয়েছে সে।
এই অা‌বিস্কা‌রে তাকে সহায়তা করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র শান্তনু ভট্টাচার্য। ব্লুটুথ ও ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই বাল্বকে।বাল্বটি যে ঘরে লাগানো হবে তার ১০ মিটার এলাকার মধ্যে কি ঘটছে সেই তথ্য আহরণ করতে পারবে। মোবাইলের স্ক্রিনে এসব যেকোন জায়গা থেকে দেখা যাবে। হোম সিকিউরিটি অর্থাৎ বাল্বে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ঘরে অপিরিচিত কেউ ঢুকেছে কিনা তাও দেখা যাবে। আবার সেন্সরের মাধ্যমে আগুন ধরেছে কিনা কিংবা গ্যাস ছড়াচ্ছে কিনা দেখা যাবে। সঙ্গে অনেককিছু নিয়ন্ত্রণও করা যাবে।

তারিক ও শান্তনুর এই উদ্ভাবনে খুশি হয়ে তাদের প্রযুক্তিটি লুফে নেয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান বিএমসি। তাদের দুজনের সাথে চুক্তি হয়, এই বাল্বটি উন্নত করতে সব ধরনের সহায়তা করবে বিএমসি।এর আগে ২০১৬ সালে তারিক উদ্ভাবন করে মাইন্ড ওয়েব ডিভাইস। যা মনের চিন্তাকে কাজে রূপান্তর করে। তারিকের এই উদ্ভাবনটি চট্টগ্রাম বিসিএসআইআর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা’২০১৫-এ প্রথম পুরস্কার লাভ করে। এছাড়াও যন্ত্রটি প্রদর্শন করা হয় ঢাকা বিসিএসআইআর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে। সেখানে তৃতীয় স্থান লাভ করে তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি।
রোবোট নিয়ে কাজ করায় বেশ আগ্রহ তারিকের। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে রোবোটিকসে ৯ বার ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সে। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুবাদে পরিচয় হয় বুয়েট ও চুয়েটের কয়েকজন প্রযুক্তিবিদের সাথে। রোবোটিকসে তার আগ্রহ ও কাজ দেখে ২০১৬ সালে তাকে রোবো ল্যাব বিডি তে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৭ সালের শেষের দিকে একই পদে আলফা বাইটে যোগ দেয় সে। রোবোটিকসের বিভিন্ন প্রজেক্ট, ডেভেলপিং নিয়ে কাজ করে এসব সংগঠন।ইউটিউবে নিজের একটি চ্যানেলও আছে তারিকের। যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে তার বেশ কিছু ভিডিও আছে। শুধু বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে থাকে যে ছেলে, ডিবেটিংয়েও রয়েছে তার দক্ষতা। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দুইবারের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন এই তারিক।

এতসব অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষের একটি সিদ্ধান্ত। আর মাত্র দুটি পরীক্ষা বাকি ছিল তার। ফেসবু‌কের ক‌য়েক‌টি নিউজ লিংক সূ‌ত্রে জানা যায়, রসায়ন পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নে পেন্সিলের দাগ দেয়ার অপরাধে তাকে বহিষ্কার করে দেয়া হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রা‌মের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। তবুও কাজ হয়নি। কর্তৃপক্ষ তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে।হায়‌রে প্রশাসন! প্রশ্ন‌বিদ্ধ এদে‌শের শিক্ষাব্যবস্থা অার প্রশ্নপত্র ফাঁ‌সের বিরু‌দ্ধে কিছু কর‌তে না পার‌লেও কৈ‌শোর তারু‌ণ্যের সব সম্ভাবনা শেষ ক‌রে দেওয়ার ক্ষে‌ত্রে এরা এগি‌য়ে। আচ্ছা ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব তারিকের অন্যায়টা কী? মূল খাতায় দাগানোর আগে এমসিকিউতে পেনসিলের দাগ দেয়া কী মহা অন্যায়? তারপরেও আপনার কাছে অন্যায় মনে হলে এমসিকিউর নম্বর কেটে দেন একটা ছেলেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করে তার জীবনটা নষ্ট করলেন কেন? অনেক ক্ষমতা আপনার তাই না? প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে পারবেন না। কিন্তু একটা বাচ্চা ছেলের যে কী না দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতো তাঁর জীবন নষ্ট করতে পারবেন তাই না?শুনলাম ব‌হিস্কা‌রের ঘটনার পর ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী আর দেশে থাকবে না। কানাডায় চলে যাবে সে এখন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ডাক ও টে‌লি‌যোগা‌যোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারসহ সং‌শ্লিষ্ট‌দের দৃ‌ষ্টি অাকর্ষণ কর‌ছি। অাপনারা ঘটনাটা তদন্ত করুন।‌ ক্ষু‌দে বিজ্ঞানী তা‌রিক কী এমন অপরাধ ক‌রে‌ছিল তদন্ত করুন। যে ক‌রেই হোক দে‌শে রাখুন। কারণ, জি‌পিএ ৫ পাওয়া হাজার হাজার সনদধারীর চে‌য়েও একজন তা‌রি‌ককে অনেক বে‌শি দরকার বাংলা‌দে‌শের।

Share.