র্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন?

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দেশে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারাকে কালো আইন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এটা বাতিলের জন্য কয়েক বছর ধরেই আন্দোলন করে আসছে সাংবাদিকরা। কোনো এমপি-মন্ত্রীর অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলেই ৫৭ ধারায় মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অবস্থাটা এ রকম যে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা দুর্নীতি লুটপাট করতে পারবে কিন্তু সাংবাদিকরা এসব নিয়ে কিছু লিখতে পারবে না। লিখলেই ৫৭ ধারায় মামলা।

৫৭ ধারা বাতিলে সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে ৫৭ ধারা সংশোধন করা হবে। ইতিমধ্যে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ নামে একটি নতুন আইন তৈরি করেছে। এখানে আগের ৫৭ ধারাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তবে, আগের চেয়ে আরও কঠিন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ধারা কমে ৫৭ থেকে ৩২ হয়েছে। তবে শর্ত বেড়ে ৭ বছর থেকে ১৪ বছরের জেল করা হয়েছে।

সরকারের নতুন ডিজিটাল আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে-সরকারি, আধাসরকারি বা শায়ত্বশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস বা কোনো যন্ত্রদিয়ে গোপনভাবে কিছু রেকর্ড করলে তা গুপ্তচর বৃদ্ধির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর সাজা ১৪ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা অর্থদ-।

ইতিমধ্যে সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারের এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করছেন এ আইন সাংবাদিকতার সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক না।

তবে, সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আজ আইনটির উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্যদের মান-ইজ্জত রক্ষা করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ করা হয়েছে। আপনারা (সাংবাদিকরা) গণমাধ্যমে যেভাবে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন, তাতে তাদের মান-ইজ্জত থাকে না। তাদের সম্মান ক্ষুন্ন হয়। তারা তো জনপ্রতিনিধি। তাই এগুলো ঠেকাতেই এ আইন করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বিষয়টি পরিষ্কার যে, যেসব এমপি-মন্ত্রীরা অনিয়ম-দুর্নীতিতে লিপ্ত তাদেরকে রক্ষা করতেই মূলত এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। দেখা গেছে, বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইদানিং ঘুষের টাকাসহ সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ছেন। এখন থেকে তারা নির্ভয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন করতে পারবেন। আর কোনো গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ার আশঙ্কা থাকবে না।

Share.