মানুষ থেকে আওয়ামী লীগ হতে আমার কোনো আপত্তি নাই: আহমদ শফি,

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ আহমদ শফি বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগ হই নাই, মানুষ বলছে আমি নাকি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি। এটা ভুল! তবে আওয়ামী লীগ হয়ে যেতেও আমার কোনো আপত্তি নাই।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় “বেফাকুল মাদারিসিল অ্যারবিয়া বাংলাদেশ ও আল হাইয়াতুল উলইয়া-লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মুমতাজ (জিপিএ-৫) প্রাপ্ত  চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ এবং কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভায়” প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে আমাদেরকে সম্মান দেখিয়েছেন। তিনি ওয়াদা করেছেন সনদের স্বীকৃতি আমি দেবই দেব! দিয়ে দিয়েছেন। কারো কোনো কথার দিকে তিনি কর্ণপাত করেননি।

ছাত্রদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমরা (ছাত্ররা)  এটার মূল্যায়ন করো। তোমরা অনেক বড় ডিগ্রি পেয়ে গেছো। একসময় তোমরা সরকারী মাদরাসায় চুপে চুপে পরীক্ষা দিতে। এখন সরকারী মাদরাসার ছাত্ররা এখানে এসে পরীক্ষা দিবে। সরকারী সনদ দিয়ে কওমি উলামাদের সম্মানিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এক পর্যায়ে তিনি তির্যক কন্ঠে বলেন, মানুষ বলাবলি করছে আমি নাকি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি, মিথ্যা কথা বলতেছো-কমবখক্ত। উনি আমাকে এমনে মহব্বত করে দিয়েছেন। আমিও আওয়ামী লীগ হয় নাই। এটা আপনাদের ভুল! আওয়ামী লীগ হই নাই। কথাবার্তা বলার সময় মিথ্যা কথা-সত্য কথা যাচাই করে বলবেন। কি করে বলতেছেন আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি। আমি আওয়ামী লীগ হয়ে যেতেও কোনো আপত্তি নাই। আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন এমন মানুষ আছে যারা দ্বীনকে ভালবাসে, আমাদেরকে মোটা অংকে সাহয্য করে।

এরআগে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সম্মানীত হয়েছেন। তিনি উলামা সমাজকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করেছেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি আমাদের সবার মুরব্বী। আল্লাহ তা’আলা তাকে দীর্ঘায়ু করুন।

ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করতে হতে। বাতিলের দাঁতভাঙ্গা নয়! মাড়িভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।

চট্টগ্রাম সাতকানিয়া আসনের এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, কওমি সনদের এমন স্বীকৃতি বিশ্বে বেনজির। বিশ্বেও কোথাও সরকারীভাবে স্বতন্ত্র স্বীকৃতির নজির নেই। অন্যান্য দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সনদ দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারীভাবে স্বতন্ত্র স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বিশ্বে যত মাদরাসা আছে সবগুলোর মূল হলো কওমি মাদরাসা।

মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা বেফাক সভাপতি মাওলানা ছলিমুল্লাহ।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, বেফাক মহাপরিচালক মাওলানা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, বেফাক সহকারী মহাসচিব মুফতি নুরুল আমিন, হাটহাজারী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ্য মীর কফিল উদ্দিন, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন, উপজেলা ভাইস  চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনিরসহ আরো অনেকে।

Share.