নরসিংদীতে ২ টাকা কেজি বেগুন!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

নরসিংদীতে বেগুনের অতিরিক্ত ফলন এখন কৃষকের বোঝা হয়েছে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের মুখে হাসির বদলে কপালে নেমেছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। বেগুনের বাজার দরে ধস নামায় এই দুশ্চিন্তা কৃষকের চোখে-মুখে। নরসিংদীর পাইকারি বাজারগুলোতে এখন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে দুই টাকা দরে। মণ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকায়।

এতে লাভ তো দূরের কথা, বাজারে নেওয়ার পরিবহন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকরা। তার ওপর ঋলের টাকার ওপর চড়া সুদ। এর সুবিধা নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর বেগুনের বাম্পার ফলন ও আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি কারণে সবজির উৎপাদন বেড়েছে। ফলে বেগুনের দাম কমে গেছে। তবে শিগগিরই বেগুনের দাম বাড়বে বলে আশাবাদী কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে নরসিংদী জেলায় প্রায় আট হাজার হেক্টর জমিতে বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করা হয়। এসব সবজি দেশের ৪০ শতাংশ সবজির চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এর মধ্যে ৭০ ভাগ সবজিই সরবরাহ করা হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। রপ্তানি করা হয় বিদেশেও। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে জেলার নয়টি পাইকারি সবজির বাজারেই সরবরাহ বেড়েছে বেগুন, লাউ, সিম, চিচিঙ্গা, জালিসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির।

কৃষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত এক মাস ধরে জেলার পাইকারি বাজার বেলাবো উপজেলার বারৈচা, নারায়ণপুর, রায়পুরা উপজেলার জঙ্গী শিবপুর, শিবপুর উপজেলা সদর, সিঅ্যান্ডবি বাজার, পালপাড়া বাজারসহ সবজির সব পাইকারি বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি বেগুন ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে পারলেও এক মাস ধরে বেগুনের দরপতন ঘটেছে। প্রতি কেজি বেগুন ২ থেকে ৩ টাকায় অর্থাৎ মণপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচসহ প্রতি কেজি বেগুনের উৎপাদন মূল্য দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। এ ছাড়া এসব বেগুন বাজারে আনতে পরিবহন খরচও যুক্ত হয়। এক মাস ধরে বেগুনের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ দূরে থাক, পরিবহন খরচও উঠাতে পারছেন না কৃষকরা।

সবজির পাইকারি বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির সমরোহ। কেউ ভ্যানগাড়ি, কেউ ইজিবাইক, কেউবা পিকআপ ভ্যানে ভরে বেগুন নিয়ে হাজির হয়েছেন বাজারে। বেগুনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও পাইকারি ক্রেতাদের মধ্যে এসব বেগুন কেনায় উৎসাহ ছিল কম। কদর না থাকায় কৃষকরা অনেকটা হতাশ হয়েই পাইকারি ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন।

বেগুন চাষি মো. করিম মিয়া বলেন, বেগুন ক্ষেতে নিয়মিত সার, কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়, যা অনেক ব্যয়বহুল। দাম বাড়ার আশায় এক মাস ধরে নিয়মিত জমির পরিচর্যা করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

অপর চাষি জসিম উদ্দিন বলেন, বাজারে প্রতি কেজি বেগুন এখন দুই টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ জমিতেই প্রতি কেজি বেগুনের উৎপাদন খরচ পড়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা। লোকসানের শেষ নেই। তিনি আরো বলেন, ‘গত ১০ বছরের মধ্যে বেগুনের এমন দরপতন আর হয়নি। কষ্টার্জিত বেগুন নিয়ে আমরা এখন বড়ই বিপদে আছি। কীভাবে সংসার চলবে?’

নরসিংদীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. লতাফত হোসেন বলেন, এ বছর বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তার ওপর আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই লক্ষমাত্রার চেয়েও বেগুনের ফলন বেশি এসেছে। ফলে বেগুনের দাম কমে গেছে। তবে রমজানের সময় পুনরায় বেগুনের দাম বেড়ে যাবে।

Share.