যা কামাই তাতো পুলিশে নিয়ে যায়, সংসার চালাব কি করে?

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

সামনে বাবার লাশ। বাড়ির আঙ্গিনায় মাটিতে বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। ৯ বছরের মেয়ে ও ৪ বছরের ছেলে সন্তান গুলো সেই লাশ দেখে কান্না করছে।

এই মর্মান্তিক দৃশ্য তা যে কোন মানুষকে কাদাঁবে। অবুঝ সন্তানের সামনে তাদের ভরসার সবচেয়ে বড় ঠিকানা ‘বাবা’ নিথর হয়ে পড়ে আছে। যে বাবা বাড়ি এসে আগে জড়িয়ে ধরে আদর করত। সে বাবাকে আজ সন্তানরা জড়িয়ে কান্না করছে। কিছুক্ষণ পরে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে চিরদিনের জন্য কবরে রেখে আসা হবে। আর কখনও তারা বাবা নামে কাউকে ডাকতে পারবেনা। ছোট বাচ্চারা জানেনা কেন তাদের বাবা মারা গেছে। তারা শুধু জানে তাদের বাবা আর ফিরে আসবেনা।

বলছিলাম লামা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পাড়া কুঠির শিল্প এলাকার মৃত কোরবান আলী এর ছেলে মো. আলী’র কথা। তিন দিন আগে বিষপান করে লামা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে মারা যায়। তার এই মৃত্যু কয়দিন পরে সবাই ভুলে যাবে। কিন্তু তার অবুঝ সন্তানগুলোকে সারাজীবন এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। বাবা থাকলে যেভাবে মানুষ হয়ে উঠত সেভাবে হয়ত তারা মানুষ হতে পারবেনা। একটি মানুষের মৃত্যুতে শুধু সে কষ্ট পায়না, তার সারা পরিবারকে এর ভোগান্তি পোহাতে হয়।

কেন বিষপান করেছিল আলী …. ???

১. সাংসারিকভাবে সুখি ছিলনা সে। বউয়ের হাকাবকা ও মানসিক নির্যাতন সবসময় তাকে অস্তির করে রাখত।

২. বাবার রেখে যাওয়া বেশ কিছু ভূ-সম্পত্তি অতি অল্প সময়ে নষ্ট করে ফেলেছিল। তার জন্য একটা অনুশোচনা সবসময় তার মধ্যে কাজ করত।

৩. সে জীবিকা নির্বাহ করত মোটর সাইকেল ভাড়া মেরে। পেশায় ছিল মোটর সাইকেল ড্রাইভার। গাড়ির লাইসেন্সও ছিল। ছিলনা নিজের ড্রাইভিং লাইন্সেস। কিন্তু খাকি পোশাকের মানুষ গুলো (ট্রাফিক পুলিশ) তাকে প্রায় নানান অপরাধের কারণ দেখিয়ে ধরে নিয়ে যেত। বিষপানের আগে ৭ দিনে ৩ বার তাকে আটক করে পুলিশ। প্রতিবারই কিছু টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। প্রশ্ন হল টাকা দিলে কি সব বৈধ ???

বেচেঁ থাকার সময় হাসপাতালে দেখতে গেলে ‘আলী’ জানায় যা কামাই তাতো পুলিশে নিয়ে যায়। সংসার চালাব কি করে??? খাকি পোশাকের ভাইদের কাছে ৫শত বা হাজার টাকা হয়ত সামান্য। কিন্তু গরীব মানুষের জন্য তা কয়েক দিনের সংসার খরচ। মোটর সাইকেলে ভাড়ায় চালানো অন্যায় আমি জানি। কিন্তু তা দিয়ে যদি একটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়, তা কি অপরাধ ???

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী এস্তেহার ছিল আমরা ঘরে ঘরে চাকরী দিব। সরকার তা পারেনি। কিন্তু সাধারণ মানুষ নিজে নিজের কর্মসংস্থান করে নিলে তাতে কেন বাধা দেয়া হবে? একদেশে দুই আইন থাকবে কেন ? অবৈধ হলে সব অবৈধ। আমি যতটুকু জানি লামা-চকরিয়া, লামা-সরই, লামা-রুপসীপাড়া, লামা-আলীকদম লাইনে চলা কোন জীপ গাড়ির লাইন্সেস নাই। তাহলে তারা কিভাবে রাস্তায় গাড়ি চালায়? তাছাড়া মাহিন্দ্র, সিএনজি, অটোরিক্সা, ট্রাক্টর বিনা লাইসেন্সে কিভাবে চলে?

নিজেকে ধরে রাখতে পারলামনা। অবুঝ ছোট দুইটি শিশুর কান্না আমাকে বিদ্রোহী করেছে। যাদের কারণে আজ আলী না ফেরার দেশে চলে গেল তারা কি খবর নেবে তার পরিবারের। এই শিশু গুলো অযত্নে বেড়ে উঠবে। এই দেশ উন্নত দেশ হতে হলে এই সব শিশুদের কেও সুনাগরিক হতে হবে। তাছাড়া ভিশন ২০২১ বা ২০৪১ বাস্তবায়ন অসম্ভব। আমি এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশকে একা অপরাধী করছিনা। শুধু এতটুকু বলব আপনাদের একটু সহযোগিতা আরেকটা মানুষকে খেয়ে পড়ে বেচেঁ থাকতে সহায়তা করবে। আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়।

খোলা কলামে প্রকাশিত সব লেখা একান্তই লেখকের নিজস্ব মতামত। এর সাথে পত্রিকার কোন সম্পর্ক নেই।

Share.