আপনার মোবাইলই আপনাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে?

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

আমরা অনেক সময় খরচ ছাড়াই বিভিন্ন অ্যাপ ফ্রি ডাউনলোড করি। কিন্তু সস্তার তিন অবস্থা বলে একটা কথা আছে। বিনামূল্যে এসব অ্যাপ ডাউনলোড করতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রেই নিজেদের অজান্তে ব্যক্তিগত তথ্য অন্যদের জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। আর তাতে একজন মোবাইল ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার সঙ্গে কি চেট করছে, তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নাম্বার সহ অন্যান্য তথ্যও পেয়ে যায়।

কিন্তু আমরা যখন ওই অ্যাপটি ফ্রি ডাউনলোড করি তখন একবারও খেয়াল করি না সেখানে অনেক শর্ত দেয়া থাকে। আর তা না করায় আমাদের সম্পর্কে অনেক তথ্যই বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানি কাজে লাগাচ্ছে। কখনও কখনও এসব তথ্য নিয়ে অনেককে হয়রানিও করা হচ্ছে।

সাধারণত কোন অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় অনেকগুলো শর্ত আসে বা সম্মতি চাওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো না পরে সবাই ‘ওকে’ করে দেন। তার মানে সেই অ্যাপটিকে ফোনের অনেক তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয়া হলো।

বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানি এসব তথ্য ব্যবহার করে। হয়তো কোন সাম্প্রতিক মেডিকেল টেস্টের তথ্য বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে বিক্রি করা হয়, যা দেখে তারা এসব গ্রাহকের কাছে তাদের ওষুধের তথ্য পাঠাবে। অথবা সাম্প্রতিক কোনও বিদেশ ভ্রমণের তথ্য চলে যাবে বিমান কোম্পানি বা ট্রাভেল কোম্পানির কাছে।

তথ্য সুরক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এখনকার বিশ্বে কোনও কিছুই ফ্রি নেই। বিনামূল্যে এসব অ্যাপ ডাউনলোড করে আসলে আপনি আপনার নিজের, পরিবারের বা বন্ধুদের তথ্য বিনিময় করলেন। এ কথায় নিজের সমূহ ক্ষতিই করলেন।

যতদূর জানা যায়, কোম্পানিগুলো এসব তথ্য চুরি করে একেকজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে। বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি টাকার বিনিময়ে এসব অ্যাপ নির্মাতা কোম্পানি থেকে তথ্য কেনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যেকেই ফেসবুক বা টুইটারে নিজেদের মতো করে কাজ করে। সেখানে ব্যক্তিগত অনেক বিষয় থাকে। থাকে প্রত্যেকের নিজস্ব চরিত্রের ছাপও। আর বিভিন্ন অ্যাপ ফ্রি ডাউনলোডের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্যগুলোই অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি।

বলা হয়ে থাকে, মোবাইল, অ্যাপ বা ইন্টারনেটে যত কম তথ্য দেয়া যায় ততই ভালো। কারণ ভবিষ্যতে আপনার দেয়া ব্যক্তিগত এসব তথ্যের নিরাপত্তা কী? যদিও এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে আইন তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে।

Share.