ফেসবুকে ‘লাগাম’ লাগাচ্ছে বিটিআরসি

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যেখানেই আজ চোখ রাখা যায়, বন্ধুদের আড্ডা ঠিক যেন আগের মতোই আছে। আসলেই আছে কি? না, নেই। কারণ দূর থেকে তাদের আড্ডারত মনে হলেও একটু কাছাকাছি এগোলেই দেখা যায়- মূলত প্রত্যেকেই তারা যার যার মতো ফেসবুক নিয়ে রীতিমত মশগুল। ফলে নিজেদের মধ্যে জ্ঞানমূলক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ও হচ্ছে না। বন্ধুও বন্ধুর চিন্তাটাকে মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছে না। একটা সময় আড্ডা ভেঙে চুপচাপ সবাই একসঙ্গে উঠেও যাচ্ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি শিক্ষাঙ্গণে আজ একই চিত্র।

এককথায় এইসময়টাতে ‘ফেসবুক দুনিয়ায়’ হাতড়াচ্ছে তাবৎ তরুণ সমাজ। রঙিন দুনিয়ার স্বপ্নে বিভোর তরুণেরা প্রতিদিনের কাজ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্ট কাটিয়ে দিচ্ছে ফেসবুক নিয়ে। আর তাতে তাদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্র্যাকটিকেলি তারা পিছিয়ে পড়ছে। এই আসক্তির কারণে পড়াশোনা থেকে শুরু করে চাকরি-কর্মক্ষেত্র এমনকি তরুণদের আচার-আচরণেও এক ধরনের পরিবর্তন চলে আসছে। এই মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকেও ভাবিয়ে তুলছে।

আর তাই বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের এই সোস্যাল মিডিয়া আসক্তি’ঠেকাতে ইন্টারনেটে ফেইসবুক ব্যবহারে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করতে চায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

রবিবার (২৫ মার্চ) কমিশনের সম্মেলন কক্ষে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে টেলিযোগাযোগ সেক্টরের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ এমন পরিকল্পনার কথা জানান। এসময় তিনি ফেসবুককে ‘ডিজিটাল আফিম’   ও ‘নেশা’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

ফেসবুককে তরুণ প্রজন্মের ‘নেশা’  আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেসবুক আজ ডিজিটাল কোকেন’ অ্যাডিকশনের মতো। যে একবার ঢুকছে সহজে আর বের হচ্ছে না। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজ প্যাকট্রিক্যালি ইয়ংগার জেনারেশনে খুব একটা ক্রিয়েটিভ হচ্ছে না। আজকে আমি দেখেছি ইয়ংগার জেনারেশনের ভেতরে ম্যাক্সিমাম ব্যবহার করে ফেসবুক চ্যাটিং করার জন্য। এটি কিন্তু ক্রিয়েটিভ ইউজ না।’

ফেসবুককে তরুণদের ঘুম কম হওয়া ও হতশাগ্রস্ত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান আর বলেন, ‘তরুণদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এ আসক্তি ঠেকাতে এখনই সামাজিক বিপ্লব’  গড়ে তোলা দরকার। এখনই জোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

ইন্টারনেট ব্যবহারে বিটিআরসির নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকার অনুমোদন পেলে এসব ব্যাপারে আমরা খুব দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।’

ইন্টারনেটে ফেইসবুক ব্যবহারে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘খুব শিগগিরই প্রস্তাব করব যে যাতে ইন্টারনেটে ক্রিয়েটিভ ইউজের জন্য কোনো বন্দোবস্ত করা যায়। কোনো একটা বিশেষ রেইট দেওয়া যায় ফেইসবুক ব্যবহারের জন্য, আবার ক্রিয়েটিভ ইউজ যদি করা যায়, তাহলে আরেক রকমের রেইট। তাহলে হয়তবা ফেইসবুক ব্যবহার না করে নলেজ আহরণের জন্য চেষ্টা করবে তরুণরা। আর তাতে আমাদের প্রজন্মও সঠিক পথে ফিরে আসবে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন টেলিযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিটিআরসি সচিব মো. সরওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিশেষ অতিথি ছিলেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। এসয় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা আলম এবং অ্যামটব মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির প্রমুখ।

Share.