কেরোসিন ঢেলে ভাতিজিকে পুড়িয়ে মারলেন চাচী!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

নরসিংদীর শিবপুরে চাচীর মোবাইল চুরির অভিযোগে আজিজা খাতুন (১২) নামের ছাত্রীকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার খৈনকুট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজিজা খাতুন খৈনকুট এলাকার আবদুস সাত্তারের মেয়ে ও খৈনকুট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী।

পরিবারের লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে খৈনকুট এলাকার প্রবাসী সালাম মিয়ার স্ত্রী বিউটি বেগমের মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় ভাতিজি আজিজা খাতুনকে সন্দেহ করেন বিউটি। এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলে আসছিল। পাশাপাশি বিউটি আজিজাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দুপুরে নিখোঁজ হয় আজিজা। রাত নয়টার দিকে বাড়ির পাশে শরীরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল বার্ণ ইউনিটে পাঠায়। শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজা খাতুনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শামীম মিয়া ও মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘চিৎকার শুনে সামনে এগিয়ে দেখি আজিজার গায়ে আগুন। পরে আমরা গিয়ে আগুন নিভিয়ে সিএনজি করে হাসপাতালে পাঠাই। সকালে শুনি সে মারা গেছে। তবে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করার সময় তাঁর হাত পা বাঁধা ছিল কিনা আমরা দেখিনি।’

মা রেহেনা বেগম বলেন, ‘দুপুরে আজিজা নিখোঁজ হয়। পরে ঢাকা থেকে আমার ছেলে সুজন জানায় আজিজা নরসিংদীতে অপহরন হয়েছে। তাঁরা টাকা চাইছে। পরে আমি আমার বোনকে নিয়ে সন্ধ্যার পর নরসিংদী ডিবি পুলিশের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা হই। পরে আবার ছেলে ফোন করে বলে বাড়ির পাশে আমার মেয়েকে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।’

শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুজিবুর রহমান বলেন, কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদদ্ধ হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। পরিবারের লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share.