মন্ত্রীদের পিএস-এপিএস নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রাপ্যতা অনুযায়ী একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী উপসচিব পদমর্যাদার অধিকারী সরকারি যে কোনও কমকর্তাকে একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। বর্তমানে কার্যকর “মিনিস্টারস, মিনিস্টারস অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রিম্যুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩”-এ সুনির্দিষ্ট করে এটিই বলা আছে। কিন্তু এটি মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাপ্যতার বাইরে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পিএস পদে রাখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইন না মানার এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি যেমন হচ্ছে, সরকারি কাজকর্মেও নানারকমের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে আছেন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এমনকি দু’একজন অতিরিক্ত সচিবও আছেন, যারা পিএস হিসেবে কাজ করছেন। প্রশাসনে দফায় দফায় পদের অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে কারো কারো যুক্তি হলো, যেহেতু প্রশাসনে পদের চেয়ে বেশি পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং সরকার বা প্রশাসনের অন্যান্য পদগুলোতেও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা নি¤œপদে কাজ করছেন, তাই পিএস পদেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পিএস পদের সঙ্গে অন্যান্য পদের বৈশিষ্ট্যগত কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পিএস’রা সাধারণত মন্ত্রীর একান্তই অফিসিয়াল কাজকর্মে সহায়তা করেন। পাশাপাশি তারা মন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয় বা দফতরের অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করেন। আর সেই কারণেই পিএস পদে সিনিয়র কর্মকর্তা থাকায় নানারকমের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
রীতি অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা অধীন দফতরের কর্মকর্তারা এবং সংস্থা প্রধানরা পিএস’র মাধ্যমেই মন্ত্রীর মতামত নেন। ফাইল অনুমোদনও করানো হয় পিএস’র মাধ্যমেই। অথচ উচ্চ বা সিনিয়র পর্যায়ের কোনও কর্মকর্তা পিএস পদে থাকলে তার সঙ্গে কথা বলতেই ইতস্তত করতে হয়। জরুরি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজন হলেও তাকে জোর করে কিছু বলা যায় না। এ ধরনের পিএসরা সাধারণত নিজের মর্জিমতই কাজ করেন। নিজে সিনিয়র কর্মকর্তা হওয়ার কারণে অন্যদের কথাকে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না।
অবশ্য, ইতিপূর্বে এক সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, বিশেষ করে দক্ষ, যোগ্য ও গুণগত মানসম্পন্ন কর্মকর্তারা অনেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করতে চাইতেন না বা আগ্রহী হতেন না। কারণ, এতে ভাবমুর্তি ক্ষুণœ হওয়ার আশংকা থাকে। পেশাদারিত্বে ভাটা পড়ে। মন্ত্রীর রূঢ় আচরণেরও শিকার হতে হয় অনেক সময়। মন্ত্রীরা কেউ কেউ পিএস’র সঙ্গে চাকর-বাকরের মতোও আচরণ করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ এগুলো মেনে নিয়েই আজকাল প্রশাসনের কর্মকর্তারা পিএস-এপিএস হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। টু-পাইস কামানোসহ কিছু অতিরিক্ত সুবিধাপ্রাপ্তির আশায় অনেক কর্মকর্তা উচ্চ পদে পদোন্নতির পরও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পিএস পদে থেকে যেতে চান। এমনকি এর জন্য তদবিরও করেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিএস পদে থাকার কারণে মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও মাঝেমধ্যে বিব্রত হন। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতি আগ্রহের কারণে তাকে পিএস পদেই রাখতে হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ ও সুচারু কর্মকা-ের স্বার্থেই এমন পরিস্থিতির অবসান হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(সাপ্তাহকি শীর্ষকাগজে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ প্রকাশতি)

Share.