অতিরিক্ত পড়ার চাপেই প্লেনে নগ্নতা!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

শিক্ষাজীবনে মাইলস্টোন কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫। মালয়েশিয়ার সাইবারজায়া ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক পড়ছিলেন দিদার আলী মাহমুদ (১৯)। তবে মালিন্দো এয়ারের ফ্লাইটে নগ্নতা, হিংস্র আচরণের কারণে গত ২ দিন ধরে বিশ্বজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত তিনি। পরিবারের দাবি, দিদার ‘পড়াশোনার চাপে ২ বছর আগ থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন’।

মালিন্দো এয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দর থানায় তাকে আটকে রাখা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। বর্তমানে ছেলেটি বারিধারার ‘প্রমিসেস-সেন্টার ফোর ডি-এডিকশন অ্যান্ড ডিপ্রেশন’ এ চিকিৎসাধীন।

দিদারের বাবা ফারুক আল মাহমুদ জানান, ২০১৬ সালে সাইবারজায়া ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যায় দিদার। পড়াশোনার ২-৩ মাস পরই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরে সে। আমি নিজে গিয়ে তাকে কেপিজে হাসপাতালে চিকিৎসা করাই। এরপর সে কিছুটা সুস্থ হয়। সে সুস্থ ছিল বলেই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে রেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, গত ১ বছর পড়াশোনার চাপে দিদার মাইন্ড ডিপ্রেশনের (মানসিক বিষণ্ণতা) শিকার হয়। এরই ফলশ্রুতিতে প্লেনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আমার সন্তান মদ্যপ ছিল না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় দিদার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মগ্ন থাকতো, ভালো ফলাফল করতো। এসএসসি-এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে কুয়ায়ালামপুরে পাঠানো হয়।

দিদারের বাবা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ৩ দফা দায়িত্বপালন করেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি জনশক্তির রফতানিকারক একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক। ছেলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মাদকাসক্ত নয়। অতিরিক্ত পড়াশোনার কারণে আজ তার এ অবস্থা।’

এর আগে শনিবার মালিন্দো এয়ারের ওডি-১৬২ ফ্লাইটের ভেতরে থাকা কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসার সময় দিদার তার পরনের জামাকাপড় খুলে ল্যাপটপে উচ্চ শব্দে পর্নো ভিডিও দেখেন। এরপর ফ্লাইটের টয়লেটের সামনে এক গৃহবধূকে হয়রানি করেন। শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর দিদারকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন’র হাতে সোপর্দ করে মালিন্দো এয়ার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘তাকে প্রসিকিউশন দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন উল্লেখ করে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’
শীর্ষনিউজ/এসএসআই

Share.