জনতার প্রতিরোধে পালিয়ে গেল ছাত্রলীগ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় শুনতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বকশিবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে মগবাজার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে সেখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়েছেন বিএনপি কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি তাৎক্ষণিকভাবে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, হলি ফ্যামেলি হাসপাতালসহ আশপাশের গলিতে সকাল থেকেই অবস্থান নেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকে তাদের দেখামাত্র ধাওয়া দেয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারাও পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে উভয় দলের নেতাকর্মীরা পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। তবে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়ায় ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সড়কের মোড় ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীরা চলে যান।

গাড়িবহরে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মগবাজার মোড়ে তাদের লক্ষ্য করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। এসময় সেখানে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনও ব্যবস্থা নেননি।

দুর্নীতির মামলার রায় শুনতে গুলশানের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩০টির বেশি গাড়ি রয়েছে। তবে খালেদার নিরাপত্তায় সিএসএফ (চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্স) এর কেউ নেই। পোশাকধারী সদস্যরা ছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত আছেন। গাড়িবহর সাতরাস্তা পর্যন্ত আসার পর ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে এসে বহরের সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে পুলিশ এসময় তাদের কোনও ধরনের বাধা দেয়নি।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ মামলায় রায় ঘোষণা করবেন। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন– মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এরপর ২৩৬ কার্যদিবসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। মামরায় ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে।

Share.