ভালো সিভি লেখার নিয়ম-কানুনগুলো জেনে নিন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

১. নিজেই বানান
নিজের সিভি নিজেই তৈরি করুন। ইন্টারনেটে সিভি’র প্রচুর নমুনা পাওয়া যায়।

বন্ধুবান্ধবদেরও হয়তো সিভি তৈরি করা আছে। সেগুলো দেখতে পারেন, কিন্তু কোনোটাই নকল করবেন না।
২. যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই লিখুন
সিভি বেশি বড় না করাই ভালো। বড়জোর দুই পাতা। এখন কম্পিউটারেই সবাই সিভি তৈরি করে। পুরোটা একটাই ফন্টে লিখুন। আর পরিচিত কোনো ফন্ট ব্যবহার করুন। যেমন, এরিয়াল, টাইম্‌স নিউ রোমান বা ক্যালিব্রি ইত্যাদি। পয়েন্ট সাইজ বারো বা চোদ্দো রাখুন।

যথেষ্ট মার্জিন ছাড়ুন, এবং দুটি লাইনের মাঝখানে বেশ খানিকটা করে ব্যবধান রাখুন। কোনো রকম অলংকরণ কিন্তু সিভিতে চলে না।
৩. ভুল নয়
ইংরেজিতেই সিভি লেখা হয়। ভাষা সরল রাখুন, যাতে পড়তে ভালো লাগে। যতটুকু দরকার, সেইটুকু তথ্যই দিন। হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএস-এ যে ধরনের ইংরেজি লিখে এসেছেন, সেটা কিন্তু ভুলেও এখানে ব্যবহার করবেন না। যেহেতু সিভির মাধ্যমেই নিয়োগকর্তারা আপনাকে প্রথম চিনবেন, তাই নিজের সম্পর্কে যখন কিছু বলবেন, তখন এমন কথাই লিখুন, যেটা পড়ে আপনার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হতে পারে। বাক্য গঠন, বানান ভুলের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। লেখা হয়ে গেলে কোনো শিক্ষক বা যাঁরা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের দেখিয়ে নিন। তাতে লেখায় কোনো গলদ থাকলে, ধরা পড়ে যাবে।

৪. শিক্ষাগত যোগ্যতা
যখন শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখছেন, তখন সম্প্রতি যে পরীক্ষায় পাশ করেছেন সেটা দিয়ে শুরু করে ক্রমপর্যায়ে বোর্ডের পরীক্ষা পর্যন্ত লিখুন। ভালো হয়, এগুলোকে এক একটা বুলেট পয়েন্ট করে লিখলে। বৃত্তি, পুরস্কার বা শিক্ষাগত কোনো সম্মান পেয়ে থাকলে সেটা দিতে ভুলবেন না। আবার কোথাও কোনো সেমিনার বা ওয়ার্কশপে যোগ দিয়ে কোনো সার্টিফিকেট পেয়ে থাকলে, সেটার প্রাসঙ্গিক তথ্যও উল্লেখ করুন। সঙ্গে এই সব ক্ষেত্রে আপনার সাফল্যের কথাও সংক্ষেপে লিখে দিন। লেখার সময় কেবল প্রতিষ্ঠান, ডিগ্রি এবং প্রাপ্ত নম্বর লেখা যথেষ্ট নাও হতে পারে। কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, তা উল্লেখ করা যদি প্রাসঙ্গিক হয়, অবশ্যই লিখতে হবে। কোনো ক্ষেত্রে ডিসার্টেশন দিয়ে, প্রোজেক্ট করে বা স্পেশাল পেপার লিখে থাকলে তার উল্লেখ করুন। হতেই পারে, কম্পিউটার সংক্রান্ত বা কোনো বিদেশি ভাষায় স্বল্পমেয়াদের কোর্স করেছেন, কিন্তু তার কোনো ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট পাননি। তাহলেও কী বিষয় এবং সেটা কতদিন পড়েছেন, তার উল্লেখ থাকা ভালো। অধিকাংশ সংস্থাই কেবল ফাইনাল পরীক্ষার ভালো ফল দেখতে চায় না, বরং ভালো ফলের ধারাবাহিকতা দেখতে চায়। প্রয়োজনে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সাফল্যের কিছু কিছু জায়গা বোল্ড বা ইটালিক করে হাইলাইট করে দিতে পারেন, যাতে সেটা ইন্টারভিউয়ারের নজরে পড়ে। পুরো বাক্য হাইলাইট করার দরকার নেই।

৫. অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ফ্রেশারদের সুযোগ দেয়। তাই কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে অসুবিধা কিছু নেই। তবে এর মধ্যে যদি কোনো কোর্স বা ইন্টার্নশিপ করে থাকেন, সেটার তথ্যও এখানে দেবেন। আর যারা আগে চাকরি করেছেন, তাদের পরিষ্কার করে লিখতে হবে, কোন সংস্থায় কাজ করতেন, কত বছর করেছেন, কী ধরনের প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কী পদে ছিলেন ইত্যাদি। একটা টেবিল আকারে তথ্যগুলো সাজান। এখানেও শিক্ষাগত যোগ্যতার মতোই শেষ যে চাকরিটা করেছেন, সেটাই প্রথমে রাখুন। আগের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং তার সাফল্য সম্পর্কে লেখার সময় ‘আই’, ‘মি’ বা ‘মাই’ ব্যবহার করবেন না। ‘আই ওয়াজ দি এরিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যানেজার অব এক্স ডিভিশন…’ না লিখে বলুন, ‘হেলপ্ড দ্য কম্পানি ইন সেভিং ওয়াই ক্রোরস অব রুপিজ ইন এক্স ডিভিশন অ্যাজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যানেজার’। চেষ্টা করবেন এমনভাবে বাক্যটা লিখতে, যা দেখে মনে হয় আপনি আত্মবিশ্বাসী। প্রয়োজনে ‘accomplished’, ‘developed’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করুন। আজকাল এমনিতেই ‘লিডারশিপ’ ব্যাপারটাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই কোনো ছোট দল বা কোনো ছোট প্রোজেক্টেও আপনার টিম লিডারশিপের অভিজ্ঞতা থাকলে, সেটা উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

Share.