১০ বছর ধরে ভারত থেকে প্রতিবেশী দেশে পচা মাংস পাঠানো হচ্ছে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

বাক্সের ওপরের দিকে থাকত চিংড়ি বা ইলিশ মাছ। আর তার নিচেই থাকত ভাগাড়ের পচা মাংস। এভাবেই ভারতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে হাজার হাজার কেজি পচা মাংসের রমরমা ব্যবসা চলেছে।
এই ব্যবসার মূল হোতা বিশ্বনাথ ঘড়াই ওরফে বিশুকে গ্রেফতার করার পর প্রতারক চক্রটির আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সংযোগ দেখে রীতিমতো হতবাক ভারতের গোয়েন্দারা।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বিহারের নওয়াদা থেকে সানি মালিক নামে মাংস পাচার চক্রের অন্যতম সদস্যকে আটক করে সোনারপুরের মাছ ব্যবসায়ী বিশুর নাম জানতে পেরেছে ভাগাড়কাণ্ডের বিশেষ তদন্তকারী দল।
সোনারপুরের বাসিন্দা বিশুর পারিবারিক মাছের ব্যবসা। সেই ব্যবসার প্রয়োজনেই তিনি রাজাবাজারে গ্যাস স্ট্রিটের কোল্ডস্টোরেজে দুটি গোডাউন ভাড়া করেছিলেন।

ওই গোডাউন থেকে গত সপ্তাহে পুলিশ ২০ টন ভাগাড়ের মাংস উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন বিশু। দুর্গাপুর, আসানসোল এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।
বুধবার রাতে টাকার জন্য সোনারপুর এলাকায় ফিরতেই পুলিশের ফাঁদে আটকা পড়েন বিশু। এর পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, অতিরিক্ত মুনাফার লোভেই মাছের আড়ালে মাংস মজুদ করা শুরু করেন। এর পর নিজেই ভাগাড়ের মাংসের ব্যবসায় নেমে পড়েন। হিমঘরে চিংড়ি ও ইলিশ মাছের বাক্সের আড়ালে রাখা হতো মাংসের প্যাকেট, যাতে মাংসের পচা গন্ধ মাছের বলে চালানো যায়।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, সানির মতো একাধিক সহযোগী নিয়োগ করেছিলেন বিশু। তারা মূলত কলকাতা ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ভাগাড়ে ফেলে দেয়া মরা পশুর মাংস নিয়ে আসত। সেই মাংস জমা হতো রাজাবাজারের হিমঘরে। সেখান থেকে মাছের আড়ালেই পাচার হতো মাংস।
জেরায় বিশু জানান, তিনি নিজের লোক দিয়েই বজবজের ভাগাড় থেকে মাংস আনাতেন। তার অন্যতম মাংস সরবরাহকারী শরাফত—কাঁকিনাড়া, জগদ্দল এবং উত্তর ২৪ পরগনার আরও কয়েকটি ভাগাড় থেকেও রাজাবাজারে মাংস আনতেন।

বিশেষ তদন্তকারী দলের এক সদস্য বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি- দিল্লি, পুনে ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরে নিয়মিত মাছের আড়ালে মাংস পাচার করতেন বিশু। সম্প্রতি নেপাল ও ভূটানেও এই মাংস সরবরাহ করা শুরু করেন।
বুধবার রাতে রাজাবাজারের হিমঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ প্রচুর পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, লেড সালফেট, ফরমালিনের মতো রাসায়নিক পেয়েছে। গুদাম থেকে একটি কম্পিউটারও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ওই কম্পিউটার থেকে কোথায় কোথায় বিশু মাংস পাচার করত তার সন্ধান মিলবে বলে আশা গোয়েন্দাদের।
পুলিশের দাবি, শুধু রাজাবাজার নয়, এখনও আরও কয়েকটি হিমঘরে এই মাংস মজুদ করে রাখা আছে। বিশুকে জেরা করেই সেসব গুদামের সন্ধান মিলবে।
বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতেও তদন্তকারীরা এই চক্রের আন্তঃরাজ্য যোগের কথা জানান। বিচারক ৮ মে পর্যন্ত বিশুকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবারই বিকালে উল্টোডাঙা থেকে আটক করা হয়েছে মোহাম্মদ আখলাক নামে বিশুর ঘনিষ্ঠ আরেক ‘ভাগাড় ব্যবসায়ী’কে।

Share.