বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে মওলানা সাঈদীর চিকিৎসা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চিকিৎসা করানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দী সাঈদীকে ঢাকায় এনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার পর আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুপুরে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসা হয় জামায়াত নেতাকে। তাকে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগেও নেয়া হয়। আর চিকিৎসা শেষে বেলা দুইটার দিকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হৃদরোগের সমস্যা ছাড়াও হাঁটু এবং কোমড়ে সমস্যায় ভুগছেন সাঈদী।

এক বছর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর থেকে সাঈদীর চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১ এর জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তাকে (সাঈদী) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে।’

সাঈদী কী সমস্যায় ভুগছেন- এ প্রশ্নে কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার বলেন, ‘তিনি ডায়াবেটিকসহ কিছু রোগে ভুগছেন।’

সাঈদীকে হাসপাতালে আনার খবরে তার ছেলে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীও সেখানে যান।

ঢাকাটাইমসকে সাঈদীপুত্র বলেন, ‘বাবার হার্টে পাঁচটি রিং পড়ানো আছ। ডায়েবেটিকের সমস্যাও আছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তিনি হাঁটু এবং কোমড়ে সমস্যার কারণে কারও সহযোগিতা ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারেন না।’

‘আমরা গত দুই বছর থেকে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য অনুরোধ করে আসছি। এতদিন পর অবশেষে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কারণে শুধু অর্থোপেটিক বিভাগে দেখানো হয়েছে।’

চিকিৎসক কী পরামর্শ দিয়েছেন- জানতে চাইলে সাঈদী পুত্র বলেন, ‘যতদূর জানতে পেরেছি, তাকে ফিজিক্যাল মেডিসিনের চিকিৎসকরাও দেখেছেন। কিছু ওষুধ দিয়েছেন। ব্যাথার জন্য ইনজেকশনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যেটা হাসপাতালে থেকেই দিতে হবে। কিন্তু সেটা কবে নাগাদ সম্ভব হবে আমরা জানি না।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।

তবে এর আড়াই বছর আগে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর ফাঁসির দায় দিয়েছিল। আর এই রায়ের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত অনুসারীরা তাকে চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। আর সে সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৭০ জনেরও বেশি।

আপিল বিভাগ জামায়াত নেতার দণ্ড কমানোর আদেশ দিলে সেটি পুনর্বিবেচনা বা রিভিউয়ের আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। এতে তার ফাঁসি দাবি করা হয়। তবে ২০১৭ সালের ১৫ মে সে আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ। এরপর থেকে সাঈদী কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

ঢাকাটাইমস

Share.