হায় অমিত বাবু! এত সেজেগুজে তারা গেলো, কিন্তু একি ব্যবহার করলেন আপনি?

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

হায় অমিত শাহ! এটা কেমন কথা হলো? আপনি না হয় বড় দলের সভাপতি, তাই বলে এ কেমন ভদ্রতা জ্ঞান? নাহয় ছোটদলের অনুগত সাধারন সম্পাদক, সামনে নির্বাচন রেখে দয়া মাঙতে গেছে, তাই বলে দলীয় দাওয়াত করে নেয়ার পরে রাজধানীতে থেকেও আপনি দেখা দিলেন না, এমনকি তাদের ডিনারেও আসলেন না! এটা কেমন কথা? না হয় অপ্রয়োজনীয় অযাচিত সংখ্যক অতিথি, তাই বলে একটু দেখা দিলে তো মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো না!

এরা ক্ষমতায় আসবে কি আসবে না, আপনাদের কতটুকু দয়াদাক্ষিণ্য চায়, সে প্রশ্ন পরে- কিন্তু বাড়িতে যখন পৌছেই গেছে মেহমান, একটু সৌজন্যতা আশা করেছিল! আপনারা পারেনও মাইরি- একইভাবে কয়েকবছর আগে আপনাদের প্রতিপক্ষ তখনকার ক্ষমতাসীন দল দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গেলো এদেশের বিরোধী দলের নেত্রীকে, তখনও দলীয় প্রধান রাজধানীতে থেকেও সাক্ষাৎ করেননি! একটু সমান সমান হয়ে গেলো না? এটাই কি আপনাদের কালচার? তবে আবার কোনো লীগকে খুমি করতে বলেন, তুমহারা সাথ জনম জনম কা রিশতা!

দাওয়াত করে নেয়ার পরে বাড়ির মূল কর্তা যদি মেহমানদের সাথে দেখা না করে, তখন কি যে বিব্রতকর দশা হয়, তেমনই  এক অবস্থার মধ্য দিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে দিল্লি মিশন শেষ করতে হলো। ১৯ সদস্যের দলবল নিয়ে তিনি যখন দিল্লির পথে ক্যাটওয়াক করলেন, শো শা দেখেই নিজ দেশেই অনলাইন জুড়ে শুরু হয় কোপাকুপি। প্রায় বেশির ভাগ মন্তব্যেই পায়ে পড়ার যাওয়ার মিশন হিসাবেই চিত্রিত করেছে।

 

ভারতীয় জনতা পার্টি, সংক্ষিপ্ত যার নাম বিজেপি-র ৮ জন সাধারন সম্পাদকের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের রাম মাধব হলেন কনিষ্ঠতম এক সাধারন সম্পাদক। গতবছর এই রামমাধব বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ফেরত যাওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সেক্রেটারিকে দাওয়াত করে যান। কিন্তু সেই বাত-কি-বাত দাওয়াতকে এত বিশাল সফর বানিয়ে ১৯ জনের এক পেঙুয়িন টিম নিয়ে হাজির হওয়াকে খুব ভালো চোখে দেখেনি, তার আলামত বোঝা গেলো যখন দলীয় দাওয়াত, অথচ দলের সভাপতিই সাক্ষাৎ দিলেন না। তবে যারা ওখানে গেছেন, তাদেরও বোঝা উচিত ছিলো, যে দাওয়াত করেছে তার ক্ষমতা কতটুকু, ৮ জন সাধারন সম্পাদকের একজন হয়ে দলীয় সভাপতির সাথে ঐ রামমাধবকেই এপয়েন্টমেন্ট পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয়, সেখানে তারই দাওয়াতে যাওয়ার ফল কি হতে পারে! এদেশের ভাটিতে অবশ্য শ্বশুরবাড়িতে বার বার গিয়ে উৎপাত সৃষ্টিকারী জামাইদের জন্য কিছুটা বিরূপ ব্যবহারের জন্য তৈরী থাকতে হয়!

 

মাধব বাবু ছাড়াও দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রি স্বনামখ্যাত সাংবাদিক এম জে আকবর প্রায়ই বাংলাদেশে আসার সুবাদে তিনিও ঐ দলীয় নিমন্ত্রণের কো-হোস্ট ছিলেন শোনা যায়। কিন্তু মাধব-আকবর দু’জন মিলেও অমিত শাহের মন গলাতে পারেননি- এটা লীগের জন্য হতাশার বটে!

অবশেষে খানিকটা মুখ  রক্ষা হয়েছে মোদি বাবুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ফটো সেশন দিয়ে। এতে আনন্দের আতিশয্যে দলনেতা কাদের সাহেব প্রথমেই বার্তা পাঠান- ‘ফের আশ্বাস মিল গেয়্যা!’ যদিও পরে স্বদেশে ফিরেই বিপদ অনুধাবন করে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেন- ওরা অতীতে আমাদের নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, ভবিষ্যাতেও করবেও না! শেষে ঠেলায় পড়ে বলতে হয়- আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথাই হয়নি! এসব বাকচাতুর্য কি ব্যাপক গণসমালোচনাকে স্থিমিত করার কৌশল কি না, সেটা বোঝা যাবে আরও পরে। অবশ্য এটা ঠিক যে, ঢাকার বর্তমান শাসক পার্টির সাথে নীতিগত কোনো আলোচনার জন্য উপযুক্ত কোনো পর্ষদ ছিলো না ঐ উনিশ শাবক নেতা।

প্রতিনিধিদলের মাথা সেতু মন্ত্রীর নানা লাগামহীন বক্তব্যের ওপরে আস্থাহীনতা, অতীতে সেনা জিজ্ঞাসাবাদে দলীয়নেত্রীর নাড়িভুড়ি নামানোর গল্প, এমনকি তার ব্যক্তিগত রংমহল নিয়ে সরস আলোচনা না করলে কি আপনাদের চলতোনা বিজেপি নেতাদের? শত হলেও অতিথি বলে কথা- তাদের আবার মান ইজ্জত বলতে একটা বিষয় আছে না!

bdpolitico

Share.