নির্বাচনে স্যোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ আ’লীগের বড় চ্যালেঞ্জ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি দলগুলোও প্রস্তুতি শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের প্রচার-প্রচারণা, এজেন্ট বাছাই ও প্রশিক্ষণ দেয়াসহ নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হচ্ছে। ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে আওয়ামী লীগের বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ। এটি নিয়ে সরকার ও দল বেশ দুশ্চিন্তায়।

প্রশ্নফাঁস, কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুজব রটিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অপচেষ্টা বেশ ভাবিয়ে তুলেছে আওয়ামী লীগকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে অস্বস্তিতে দলটি।

দলটির নেতারা মনে করেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করবে। এসময় ফেসবুক বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, তবে কালো কন্টেন্টগুলো বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পথে এগুচ্ছে তারা।’

বাস্তবিক অর্থে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিয়ে বরাবরই হোঁচট খাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এ জগতটিকে। এজন্য দলটি একটি তথ্য প্রযুক্তি সেল করেছে, যারা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেয়ার জন্য কাজ করছে।

অবশ্য সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আগে থেকে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং অপপ্রচারের জবাব দেয়া হচ্ছে।

তবে সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে নানা গুজব রটানোর পর বেশ নড়ে চড়ে বসেছে সরকার ও দল। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি দলীয়ভাবে নানা গ্রুপ করে গুজব বন্ধে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনের আগ মুহুর্তে এ কাজে আরও গতিশীলতা আনতে চায় দলটি। এজন্য আওয়ামী লীগ তথ্য প্রযুক্তি সেল গঠন করে কাজ করছে। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোও নজর দিয়েছে এদিকে।

ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি নানা গুজব বন্ধে ভিন্ন ভিন্ন পেইজ খুলে ছাত্রলীগ তাদের সারাদেশের নেতাকর্মীদের সংযুক্ত করছে। ইতোমধ্যে ‘গুজবে কান দেবেন না’ ও ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে পেইজ খুলে তারা কাজ করছে।

জানা গেছে, সারাদেশের ৪৫ হাজার ৫শ’ ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৩২ হাজার ৫শ’ বুথে ৫ জন করে দলীয় পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করছে আওয়ামী লীগ। সে হিসেবে মোট ১১ লাখ ৬২ হাজার এজেন্টকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে দলটি।

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভাগগুলোতে সফর করেছেন। আরও বেশ কয়েকটি জেলায় তিনি নির্বাচনী জনসভা করবেন। আওয়ামী লীগও সারাদেশকে ১৫টি সাংগঠনিক অঞ্চল হিসেবে বিভক্ত করে টিম করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্র ও শনিবার সারাদেশের ছড়িয়ে যান কেন্দ্রীয় নেতারা। নিজের নির্বাচনী এলাকার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় তারা।

ক্ষমতায় আসার জন্য আওয়ামী লীগের মসৃণ এই পথচলায় ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যেভাবে গুজব রটানো হয়, তাতে নির্বাচনেও একটি পক্ষ এ সুযোগ নেবে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। সেজন্য আগ থেকেই প্রতিরোধে প্রস্তুতিও শুরু করেছেন তারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, অ্যামেরিকাতে ট্রাম্পের নির্বাচনের সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সিনেটে শুনানি চলছে। এ বিষয়গুলোর প্রতি আমরা চোখ রাখছি। ফেসবুক-ইউটিউবসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রচারণা বা পজিটিভ প্রচারণা হয়। এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি, চিন্তা-ভাবনা করছি। আমরা তথ্য প্রযুক্তি সেল গঠন করেছি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে তারা কাজ করছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিতে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, নেট নিউট্রালিটি নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত। নেট নিউট্রালিটি আইন নিয়ে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ইতোমধ্যে চিন্তা ভাবনা করছেন। দেশীয় ওয়েবসাইটগুলো বৈষম্যের শিকার। আবার আমাদের দেশীয় কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নেই, যেটা ভারত-চীনে আছে। আমরা নেট নিউট্রালিটির পাশাপাশি দেশীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গড়ে তোলা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ফেসবুকে অপপ্রচার যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। এরপরও ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি, যেসব কনটেন্টের মাধ্যমে অপ্রপ্রচার চালানো হয় বা কালো কনটেন্টগুলো কিভাবে ব্লক করা যায়। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণেরও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আন্দোলনের মত জাতীয় নির্বাচনের সময়ও কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে গুজব ছড়াবে বলে মনে করি না। তবে বিএনপি বা যে কেউ গুজব ছাড়াতে চেষ্টা করতে পারে। আমরা সেটা মোকাবেলা করবো।

এসইউজে/এসবি

Share.