‘ওরা সকালে ‘মা’ ডাকে আর রাতে বিছানায় ডাকে’

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কাস্টিং কাউচ নিয়ে সরব হয়েছিলেন শ্রী রেড্ডি। হায়দরাবাদের মুভি আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সামনে অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শ্রী। এবার কাস্টিং কাউচ নিয়ে সরব হলেন আরও বেশ কয়েকজন দক্ষিণী অভিনেত্রী। এদের মধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন সান্ধ্যা নাইডু নামে এক অভিনেত্রী।কাস্টিং কাউচ নিয়ে শ্রী রেড্ডির ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে সান্ধ্য নাইডু বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাকে যে ধরনের চরিত্রগুলি দেওয়া হয় সেগুলি হলো মা কিংবা কাকিমার চরিত্র। শ্যুটিং সেটে সকালে ওরা আমার ‘আম্মা’ (মা) ডাকে। আর রাতে সেই তারাই আবার আমায় বিছানায় ডাকে।

একজন তো আমায় রাতে ফোন করে আমি কী পরে রয়েছি সেটাও জিজ্ঞাসা করেছিল।তবে শুধু সান্ধ্য নাইডু, শ্রী রেড্ডিই নন, দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কাস্টিং কাউচ নিয়ে সরব হয়েছেন কে অপূর্ব, সুনীতা রেড্ডিসহ আরও বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী। তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সুনীতা রেড্ডি বলেন, আমাকে জোর করে প্রকাশ্যেই জামাকাপড় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। যেখানে ম্যানেজার আমাকে জামা কাপড় পরিবর্তনের জন্য তারকাদের ভ্যানিটি ভ্যান ব্যবহার করতে বলেন, তার পরেও আমরা ভ্যানিটি ভ্যানে জামা কাপড় পরিবর্তন করার অনুমতি পাই না। আমাদের সঙ্গে নোংরা ভাষায় কথা বলা হয়।

আরো পড়ুন >> রাজীবের মৃত্যুতে চিফ হুইপের শোক, দাফন বাউফলে

দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ডান হাত হারানো কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি।রাজীব হোসেনের দাফন পটুয়াখালীর বাউফলে নিজ গ্রামে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।এক শোকর্বাতায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি। শোক সন্তাপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান চিফ হুইপ।সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীব মারা যান।রাজীব হোসেনের মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।গেল ৩ এপ্রিল রাজধানীর বাংলামোটরের দিক থেকে ফার্মগেটমুখী বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন।

হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎই পেছন থেকে একটি স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিক গা ঘেঁষে পড়ে। দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন বুধবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজীবের সুচিকিৎসার জন্য ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করে সরকার। সেখানে সাময়িক উন্নতির পর গত সোমবার থেকে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রাজীবের মস্তিষ্ক অসাড় হয়ে যায়। সে থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি তার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবকে দেখতে গিয়ে ছিলেন চিফ হুইপ ফিরোজ। তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাজিবের চিকিৎসায় সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ ও সরকার। সেই সঙ্গে তার ক্ষতিপূরণে আদালত যে রায় দিয়েছেন তা পরিশোধের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।রাজীবের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। রাজীব ও তার ছোট দুই ভাই পটুয়াখালীর বাউফলে নানার বাড়িতে ছিলেন।ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে।নিজের পায়ে দাঁড়াতে কম্পিউটার কম্পোজ, গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ শিখছিলেন। ছাত্র পড়াতেন। দম ফেলার ফুরসত পাননি। লক্ষ্য ছিল একটাই, নিজের পায়ে দাঁড়ানো, ভাই দুটির দায়িত্ব নেয়া। কিন্তু আজ সবাইকে রেখে রাজীব চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আমাদের সময়

Share.