৫০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি মাত্র ৬০ কোটি টাকায় ‘মাফিয়া’ ওরিয়নের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে

0
Want create site? Find Free WordPress Themes and plugins.

হাসানুর রশীদ, কক্সবাজার : পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) নামে পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে নব্য ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ ও ‘মাফিয়া’ গ্রুপ নামে পরিচিতি ওরিয়নের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন কক্সবাজারের সচেতন নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষ। জীবন থাকতে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হঠকারী এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে না দেয়ার ঘোষণাও নিয়েছেন তারা। কক্সবাজারবাসী বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন নগরী কক্সবাজার। আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত এটি। আর কক্সবাজারের ঐতিহ্য মোটেল শৈবাল। পর্যটন করপোরেশনের অধীন এটি কক্সবাজারের সবচেয়ে পুরনো স্থাপনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিজড়িত শৈবাল কারো হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত রুখে দেওয়র ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। সচেতন কক্সবাজারবাসীও তা কোনোভাবেই হতে দেবে না।
সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, কক্সবাজারের শৈবাল হোটেলসহ ১৩৫ একর সম্পত্তি ওরিয়ন গ্রুপের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার সরকারি এই সম্পত্তি মাত্র ৬০ কোটি টাকায় ইজারার নামে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ওই সম্পত্তিতে ওরিয়ন সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন করপোরেশনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যোগসাজশ করে সরকারকে ভুলভাল বুঝিয়ে অবৈধ আঁতাত করে এ কাজ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ট্যুরিজম এ্যান্ড এন্টারটেইম্যান্ট লি. কয়েক বছর আগে থেকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম করপোরেশনের মালিকানাধীন কক্সবাজারের ১৩৫ একর ভূমি দখল করতে উঠে-পড়ে লাগে। যার বর্তমান বাজার দাম প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই জমি দীর্ঘ মেয়াদে লিজ চুক্তির নামে গ্রাস করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার অনেককে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ম্যানেজ করেছে ওরিয়ন। যে কারণে, কক্সবাজার পৌরসভাধীন এই বিশাল সম্পত্তি সুকৌশলে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের অধীন হিসেবে রেকর্ডে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। যাতে লিজের মূল্য কম দেখিয়ে জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে লুটপাট সহজ হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খানের নেতৃত্বে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। যার ধারাবাহিকতায় সরকারি এ সম্পত্তিসহ হোটেল শৈবাল- ওরিয়নের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি স্থানীয়রা জানার পর পরই আন্দোলনে নামেন। কক্সবাজারের ঐতিহ্য ও সরকার তথা জনগণের এ জমি ভূমিদস্যুদের দখল থেকে রক্ষায় মানববন্ধন, স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আর দখলকারীদের অপচেষ্টা। এ নিয়ে সমঝোতায় গত ২৩ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল কক্সবাজার আসছেন। মন্ত্রী হোটেল শৈবালের জমি পরির্দশনের পর তা ওরিয়নের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয়দের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে জমিসহ শৈবাল- পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের নামে ওরিয়নের কাছে তুলে দিতে ২১ জানুয়ারি এক বৈঠক হয়। পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের সভাপতিত্বে পর্যটন মন্ত্রলালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কক্সবাজার সদর আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল পর্যটনমন্ত্রীর কাছে তথাকথিত পিপিপির মাধ্যমে হোটেল শৈবালের জমি কীভাবে দেয়া হচ্ছে- জানতে চান। জবাবে পর্যটনমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে করপোরেশনের চেয়ারম্যান আক্তারুজামান খান কবির বলেন, এ সম্পত্তি ২০১৩ সালে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যার অংশ হিসেবে পর্যটন মন্ত্রণালয় ওপেন টেন্ডার দেয়। টেন্ডারে ৬টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। পরে ওরিয়ন গ্রুপকে কাজ দেয়া হয়। চেয়ারম্যানের দাবি, কক্সবাজারে হোটেল শৈবালের ১৩০ একর জমি ৫০ বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নগদ ৬০ কোটি টাকা, ব্যাংক গ্যারিন্ট ২০ কোটি টাকা, পিপিপির ৮ কোটিসহ মোট ৮৮ কোটি টাকা নগদ পাওয়া যাবে। প্রথম ২ বছর ১২ কোটি টাকা সরকারকে জমি ভাড়া বাবদ দিতে হবে। পরবর্তীতে ৩ বছরে ১৬ কোটি টাকা করে সরকারকে জমি ভাড়া বাবত দিতে হবে। এছাড়া প্রতিবছর মূল ভাড়া থেকে (৩ শতাংশ) বৃদ্ধি পাবে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের শর্ত সাপেক্ষে ওরিয়ন গ্রুপকে এইটি উন্নয়নের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ৫০ বছর শেষে এই বিনিয়োগের মূল্য দাঁড়াবে ৯৬ হাজার কোটি টাকা। মেয়াদ শেষে পর্যটনের জমি পর্যটনের কাছেই থেকে যাবে। এটি লিজ দেয়া হচ্ছে না, ভাড়ায় দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রলায়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব সাইফুল্লাহ মকবুল মোরশেদ দুলাল, অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক, সিভিল এভিশিয়নের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ নাঈম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ শামীম আলম, প্রকল্প পরিচালক লে. জেনারেল (অব.) ছাব্বির আহাম্মদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহাম্মদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এডিএম খালেদ মাহমুদ প্রমুখ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লুটেরা ‘ওরিয়ন‘ গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমও। এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল হোটেল শৈবাল ওরিয়ন গ্রুপের হাতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কিছু শর্ত দেন। কিন্তু, স্থানীয় অন্যান্য রাজনীতিক নেতা ও সচেতন মহল তার ওইসব শর্তের সঙ্গে একমত নয়। তারা কোনওক্রমেই এই সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে নয়। বিশেষ চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত ওরিয়েনের হাতে তো নয়-ই।
এদিকে, কর্মকর্তাদের লুটপাট ও ভূমিদস্যুদের দখলের হাত থেকে শৈবালকে রক্ষায় ২০ জানুয়ারি নাগরিক সমাজের ব্যানারে কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতাসীন জোট। সেই সাথে কক্সবাজারে বিভিন্ন সংগঠন শৈবাল রক্ষার জন্য আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ‘ওরিয়ন গ্রুপ’কে ‘ইস্ট-ইন্ডিয়া’র মতো বিতর্কিত আখ্যা দিয়েছে কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ। জেলার ইতিহাসের অংশ ও সৌন্দর্যের প্রতীক- শৈবাল হোটেলকে তাদের (ওরিয়ন গ্রুপ) হাতে তুলে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয় এ সময়। কক্সবাজার প্রেসক্লাবের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। লিখিত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের স্বার্থে কক্সবাজারের মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। বিশেষ করে অনেক ভূ-সম্পদ ছেড়ে দিয়েছে। এ কারণে অনেকে বাড়ি-ভিটা হারিয়ে নিঃস্বও হয়েছেন। বর্তমানে কক্সবাজারের ইতিহাসের অংশ ও সৌন্দর্যের প্রতীক শৈবাল হোটেলকে বিতর্কিত ‘ওরিয়ন গ্রুপ’র হাতে তুলে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। শৈবাল হোটেল ও সাগরিকা রেস্টুরেন্ট কক্সবাজারের ইতিহাস-ঐতিহ্য। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজার আসলেই এই হোটেলের আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে শৈবাল হোটেল সংলগ্ন দিঘী মাঠ এবং খোলার জায়গা নগরবাসীর শ্বাস-প্রশ্বাসের স্থান। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ হোটেল নব্য ‘ইস্ট-ইন্ডিয়া’ ওরিয়নের মতো একটি বিতর্কিত কোম্পানির হাতে তুলে দিলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছার বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটনের অমূল্য সম্পদ শৈবাল হোটেলটি কোনোভাবে বেহাত হতে দেয়া হবে না। আমরা বেঁচে থাকতে তা হতে দেবো না। এ জন্য কক্সবাজারবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে উঠতে হবে।’ জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন, ‘শৈবাল হোটেল কক্সবাজারবাসীর শ্বাস-প্রশ্বাস। এটিকে লিজের নামে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেয়ার এই প্রক্রিয়ার সাথে কক্সবাজারের কিছু রাঘববোয়ালও জড়িত।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারের ওপর ভূমিদস্যুদের কুনজর পড়েছে। আমরা চুপ থাকলে সব নিয়ে যাবে। পর্যটনের সম্পদ আমাদের সম্পদ। এটা কাউকে দেয়া যাবে না। ঐক্যবদ্ধ থেকে আমাদের তা প্রতিহত করতে হবে।’ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘কক্সবাজারকে কোনোভাবেই বিক্রি করতে দেয়া হবে না। হোটেল শৈবাল রক্ষায় আমরা পর্যটনমন্ত্রীর সাথে কথা বলবো। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। আমরা জানি- প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের পক্ষে। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী হোটেল শৈবালকে বিক্রি হতে দেবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শৈবাল হোটেলের ৫৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প কেটে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়। তা ফেরত দেয়া এবং লিজের প্রক্রিয়া বাতিল করে শৈবালে নতুনভাবে কনভেনশন সেন্টার, শিশুপার্ক, থ্রি-স্টার মানের হোটেল ও পুরান ভবন সংস্কারের দাবি জানান তিনি। একই সাথে বিতর্কিত ওরিয়ন গ্রুপ ও সাবেক পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, তার ভাই আজিজ খান, সাবেক পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম, সাবেক পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান অপরূপ দত্ত চৌধুরীসহ অন্যান্য জড়িতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। একই সাথে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী জেলে পার্ক, বাহার গোলচত্বর মাঠ, কলাতলী গণপূর্ত আবাসিক এলাকার দু’টি মাঠসহ শহরের ঐতিহ্যবাহী ও ফাঁকা জায়গাগুলো রক্ষায় প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
এর আগে, ঐতিহ্যবাহী মোটেল শৈবালসহ ১৩৫ একর ভূমি ইজারা দেয়ার পাঁয়তারার বিরুদ্ধে গত ১ মাস ধরে ‘কক্সবাজার সোসাইটি’ আন্দোলন, সংগ্রাম, মানববন্ধনসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে। ২০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কক্সবাজার নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার সোসাইটিসহ সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ এর নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়নি। শৈবাল রক্ষার আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় তারা কিছুটা মর্মাহত হয়েছেন বলে বিবৃতি দেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে মোটেল শৈবালসহ কক্সবাজারবাসীর বিনোদন ও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার জায়গা রক্ষার দাবিতে সবাই অভিন্ন বক্তব্য রাখার জন্য সোসাইটির নেতৃবৃন্দ তাদেরকে অভিন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই অতিমূল্যবান জমি নামেমাত্র টাকার বিনিময়ে ওরিয়ন গ্রুপের হাতে যেন তুলে দেয়া না হয়- সেই ব্যাপারে কক্সবাজারবাসীকে সাথে নিয়ে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সোসাইটি। এ জন্য সব সামাজিক ও সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে। বিবৃতি দাতাগণ হলেন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সহ-সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা একেএম মনছুরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর মোহাম্মদ ইসলাম ও কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, সহ-সভাপতি কলিম উলাহ কলিম, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সহ-সভাপতি সমিল বরণ পাল, রবিন্দ্র বিজয় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট আহছানুল্লাহ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মশরুর উজ-জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক কলোল দে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া-বাদল) জেলা সভাপতি ছৈয়দ আব্দুল কাদের আফেন্দী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমান উল্লাহ।
আন্দোলনকারীরা শীর্ষকাগজকে জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে শৈবালসহ কক্সবাজারের বিশাল সম্পত্তি রক্ষা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য, দেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এই ওরিয়ন গ্রুপের মালিক ওবায়দুল করিম। এই ওবায়দুল করিম সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে ঘুষ দিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। পরবর্তীতে সেইসব প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আরো নানান অনিয়ম দুর্নীতি করেছে, ব্যাংকের অর্থ আত্মসাত করেছে। সরকারি সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, হোটেল শৈবাল অনিয়মের মাধ্যমে অযৌক্তিক শর্তে ও নামমাত্র মূল্যে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর এই অতিমূল্যবান সরকারি সম্পত্তিটি ব্যাংকে বন্ধক রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে। পরে এর দায় পড়বে সরকারের উপর।

এখানে মন্তব্য করুন
Did you find apk for android? You can find new Free Android Games and apps.
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন
  • 1.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
    1.8K
    Shares
Share.

About Author