Home / জাতীয় / বিজ্ঞাপনের নামে ‘রবি’ কী শেখাচ্ছে

বিজ্ঞাপনের নামে ‘রবি’ কী শেখাচ্ছে

মোবাইল ফোন কোম্পানি রবি সম্প্রতি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিজ্ঞাপন আপলোড করেছে। বিজ্ঞাপনটিতে শিশুরা ইন্টারনেট থেকে কী শিখছে, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে ‘সচেতন’ করতে চেয়েছে রবি। কিন্তু ‘সচেতনতার’ মোড়কে এই বিজ্ঞাপনে শিশুদের মুখ দিয়ে যা কিছু বলানো হয়েছে এবং অঙ্গভঙ্গিতে যা দেখানো হয়েছে, তাতে ‘শিশু অধিকার লঙ্ঘিত’ হয়েছে বলে মনে করছেন শিশু-মনস্তত্ত্ববিদরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সেটা ছাপিয়ে যদি ভিন্ন কিছু রিপ্রেজেন্ট হয়, তাহলে সেটি অগ্রহণযোগ্য। এদিকে, রবির পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনটির বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা দেখানোর চেষ্টা করেছি- শিশুরা ভালো জিনিস শিখছে, আবার খারাপ জিনিসও শিখছে। কেবলমাত্র একটি ‘সেফ নেট’ প্রোডাক্ট  উদ্বোধনের জন্য এটি বানানো হয়েছে।’’

একমিনিট ১১ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে ইন্টারনেট থেকে তুমি কী শিখছো প্রশ্ন করা হলে, শিশুদের কেউ বলেছে- গান শিখেছি, আজান শিখেছি, ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ শিখেছি। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি। একটি শিশু এসে আরেকটি শিশুকে দেখিয়ে বলে, ও ১৯ রকম গালি দেওয়া শিখেছে। এরপর শুরু হয় গালি দেওয়া। কিন্তু সেগুলো বিপ শব্দ দিয়ে ঢেকে দেওয়া আছে। একটি শিশু ড্যান্স শিখেছে জানিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। ভিডিও’র সব শেষে একটি শিশু মুখ ভার করে বলে, ‘আমি ইন্টারনেট থেকে বোম্ব বানানো শিখেছি।’

শিশুদের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেন গহওর নঈম ওয়ারা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুদের চেহারা দেখিয়ে এধরনের উপস্থাপন তারা কোনোভাবেই করতে পারে না। এটি আমাদের শিশু আইনেই নিষিদ্ধ আছে। শিশুর ক্ষতি হতে পারে, এমন কোনও উপস্থাপন আইনত  বৈধ হতে পারে না।’

স্বনামখ্যাত বিজ্ঞাপন নির্মাতা গাউসুল আলম শাওন বিজ্ঞাপনটি দেখেছেন জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুরুতেই কিছু শিশু ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিকগুলো বলতে থাকে। এরপর শিশুরা নেতিবাচক দিকগুলো বলতে থাকে। এ দুটো পরপর উপস্থাপন করায় অভিভাবক হিসেবে আমি দ্বিধান্বিত হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞাপনটি দেখার পর আমার কাছে মনে হয়েছিল, তারা শিশু আইন বিষয়ে কোনও প্রোডাক্ট হাজির করবে। সেটা যখন হলো না, আমি নিজেই দ্বিধান্বিত হয়ে যাই। আমারও দুটি শিশু আছে। আমি  ইন্টারনেটের এই বিষয়টি সম্পর্কে ভীষণ কনসার্ন। কিন্তু বিজ্ঞাপন যারা করছেন, তারা যদি সেটি যথাযথভাবে হ্যাণ্ডেল করতে না পারেন এবং কেবল সমস্যাটা বারবার মিডিয়াতে দেখিয়ে যেতে থাকেন, সেটির ভিন্ন অর্থ দাঁড়ানোর শঙ্কা থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের শেষে যদি সমাধান দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো এই সমালোচনা এতটা নাও হতে পারতো। এখন মনে হচ্ছে বিজ্ঞাপনটিতে কোনও সমাধান দেওয়া নাই। শেষে গিয়ে আমি কোনও একটি প্রোডাক্ট আশা করেছিলাম। বিজ্ঞাপন কিন্তু এখন আর ততো সহজ না। পপুলার কালচারে বিজ্ঞাপনের বৃহৎ প্রভাব আছে।’

class=”jরবির বিজ্ঞাপনের স্ক্রিন শটw_media_holder media_image jwMediaContent aligncenter”>যদিও রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর এই বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই ক্যাম্পেইনটার নাম হলো ‘সেফ নেট’। আমরা ওখানে দেখানোর চেষ্টা করেছি- শিশুরা ভালো জিনিসও শিখছে, খারাপ জিনিসও শিখছে। আমরা একটি প্রোডাক্ট নিয়ে আসছি শিশুদের জন্য। আসলে তারা খারাপ জিনিসও শিখছে, আমরা বাস্তবসম্মতভাবে সেটি দেখানোর চেষ্টা করেছি।’

বিষয়টি শিশু আইন ও শিশু মনস্তত্ত্ব বিরোধী কিনা প্রশ্ন করলে তিনি আগের ব্ক্তব্যেই ফিরে যান।

যতই ব্যাখ্যা দিক শিশুদের এভাবে উপস্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না বলে মনে করেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেকোনও প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে গিয়ে শিশুর বা একজন মানুষের খারাপ দিক প্রচার করতে পারেন না। বিজ্ঞাপনের সাধারণ নিয়মে এটি চলে না। বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন নীতিমালা ওই রকমভাবে না থাকার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। পাশ্চাত্যে এরকম বিজ্ঞাপন করলে এটি নিষিদ্ধ করা হতো এবং ক্ষতিপূরণের মামলা করা হতো।’

তিনি মনে করেন, যারা এধরনের বিজ্ঞাপন বানিয়েছে, তাদের মানসিক চিকিৎসা দরকার। বাণিজ্যিক কারণে এভাবে শিশুদের ব্যবহার ঠিক না। সচেতনতার চেয়ে শিশুদের জন্য এধরনের বিজ্ঞাপন অপমানজনক এবং বেশকিছু খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করছে, যেটা প্রত্যাশিত নয়।’

 

 

 

 

 

 

এখানে মন্তব্য করুন
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন

Check Also

শুক্রবার সকালে জিয়ার মাজারে যাবেন খালেদা

বিএনপির প্রকিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তার সহধর্র্মিনী বিএনপি চেয়ারপারসন …