Breaking News
Home / কলাম / প্লিজ, মানুষকে বাঁচতে দিন

প্লিজ, মানুষকে বাঁচতে দিন

বিশ্বে এখন চাল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাংলাদেশেই বেশি। বলা যায়, এক্ষেত্রে আমরা বিশ্ব রেকর্ড অর্জন করতে পেরেছি। আমেরিকার বাজারে যেখানে ১ কেজি চালের দাম ৬৪ টাকা, সেখানে বাংলাদেশে আড়ংয়ের ১ কেজি চাল ৭৫ টাকা। একই চাল ইন্ডিয়ায় ৪২, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ৩৮ টাকা। চালের মূল্যে বিশ্ব রেকর্ড বাংলাদেশেরই। ক’দিন আগে আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা বলেছে চালের দাম বাড়ায় বাংলাদেশে সোয়া পাঁচ লাখ লোক দরিদ্রসীমার নীচে নেমে গেছে।

পেঁয়াজেও বিশ্ব রেকর্ড বাংলাদেশের। বর্তমানে বাংলাদেশে এককেজি পেঁয়াজের দাম ১২০-১৩০ টাকা। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসে এতো দাম দিয়ে আর কখনো পেঁয়াজ কেনা লাগেনি। বিএনপির সময় এ পেঁয়াজের দাম ছিল ১৪ টাকা। বর্তমানে ডিমের চেয়ে পেঁয়াজের দাম বেশি। একডজন ডিম ৭২ টাকা। সে হিসেবে একটি ডিমের দাম ৬টাকা। আর বড় সাইজের একটি পেঁয়াজের দাম পড়ে ৮ টাকা। আমেরিকায় এককেজি পেঁয়াজের দাম ৫৮ টাকা, ভারতে ৭০ টাকা।

বর্তমান সরকারের সময় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতেও বিশ্ব রেকর্ড বাংলাদেশের। একবছরে তিনবার বিদ্যুত বিল বাড়ানোর রেকর্ড দুনিয়াতে এই প্রথম।

শুধু চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই গত কয়েক মাসে পাঁচ লাখ ২০ হাজার মানুষ গরিব হয়ে গেছে। আগে তাঁরা দারিদ্র্যসীমার ওপরে ছিল, এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। সরকারি মহল বলছে বন্যার পাশাপাশি সময়মতো আমদানি না হওয়ার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে গত কয়েক মাসে হঠাৎ করে চালের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গবেষকরা এমন খুঁড়ো যুক্তি মানতে রাজি নন, তারা বলছেন- দেশেতো চালের অভাব নেই। বাজারে প্রচুর চাল আছে। তাহলে দাম বাড়বে কেন? তাদের বক্তব্য হচ্ছে সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে প্রভাবশালী মহল জনগনের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। দশমিক ৩২ শতাংশ দারিদ্র্য বেড়েছে।

যারা আগে তিন বেলা পেটভরে খেতেন তারা এখন একবেলার খাবার যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেকে অর্থাভাবে সন্তান পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছে। দিনমজুর ও ভিক্ষুকের মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।

সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং বা সানেমের বাংলাদেশের অর্থনীতির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায়ও একই তথ্য দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সানেম। এতে বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। সানেম বলছে, ২১ ডিসেম্বরের হিসাবে চিকন চালের দাম ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা চালের দাম ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা।চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে  ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে নেমে এসেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, চালের দাম বাড়লে গরিব মানুষের কষ্ট বাড়ে, অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। কেননা দারিদ্র্যসীমার একটু ওপরে থাকা মানুষ খাবার কিনতে যত টাকা খরচ করেন, এর ৮০ শতাংশই চাল কেনায় খরচ করতে হয়। তাত্ত্বিক দিক থেকে সানেমের প্রতিবেদন হয়তো ঠিকই আছে। দেখতে হবে, তিন কোটি ৮০ লাখ গরিব লোকের মধ্যে সোয়া ৫ লাখ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। চালের দাম কমে গেলে তারা আবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে যাবে। এটা তেমন উদ্বেগজনক নয়।

আমি শামসুল আলমের এ মন্তব্যের সাথে একমত হতে পারছি না। একজন নাগরিকও যদি দরিদ্র হন তা রাষ্ট্রের মাথা ব্যথার কারণ হয়। যদি শাসকগোষ্ঠী দেশ প্রেমিক হয়। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র হলে শামসুল আলমের বক্তব্য হয়তো ঠিক আছে। তবে উদ্বেগের বিষয়টি হচ্ছে, রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এ ধরনের চিন্তা দেশকে পিছিয়ে দেবে। কারণ পাঁচ লাখ নাগরিক দারিদ্রসীমার নীচে নেমে যাওয়ার বিষয় যার কাছে স্বাভাবিক তিনি অন্তত এ রাষ্ট্রকে নিয়ে ভালো কিছু চিন্তা করেন এমনটি ভাবি কি করে?

শুধু নিত্যপণ্যেরই নয় লাগামহীনভাবে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। আর এ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হচ্ছে। এটি বিভিন্ন সংস্থার জরিপ।

বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়ে ২৭ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে খরচ করে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে বছরে চার শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।

সম্প্রতি সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে জাতীয় কর্মশালায় এই তথ্য দেওয়া হয়। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিকস ইউনিট, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিআইজেড দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে।

হেলথ ইকোনমিকস ইউনিটের মহাপরিচালক মো. আশাদুল ইসলাম উপস্থাপনায় বলেন, স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়ছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু বাৎসরিক স্বাস্থ্য ব্যয় এখন ২৭ মার্কিন ডলার (দুই হাজার ১৬০ টাকা)। ২০০৭ সালে ছিল ১৬ মার্কিন ডলার (এক হাজার ২৮০ টাকা)।

এটা আজ স্বীকার করতে হবে, আমাদের দেশে হু হু করে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। ‘টাকা আছে যাঁর, চিকিৎসা তাঁর’ এমন একটি কথা এখন বহুল প্রচলিত। ফলে চিকিৎসা পাওয়া যে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, তা আজকের বাস্তবতায় সর্বাংশে সত্য নয়। বিশেষ করে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা এখন মৌলিক অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ, যা কেউ পাচ্ছে, আর কেউ পাচ্ছে না। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর অসমতা এতটাই তীব্র ও প্রতিকূল যে, সমষ্টিগতভাবে তা দেশের অগ্রগতির অন্তরায়। কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতে অর্জিত সাফল্য টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর। সুচিকিৎসা এখনও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাগালের বাইরে।

এ কথা সত্য, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে, যাদের সামান্য কিছু টাকা খরচ করার সামর্থ্য নেই। যারা মধ্যবিত্ত তাদেরও চিকিৎসার জন্য কোন বাড়তি বরাদ্দ নেই। দেশে নেই হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা। ফলে পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের ঋণের অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেতে হয়। চিকিৎসার পর রোগী সুস্থ হবে কিনা, এ নিশ্চয়তা না থাকলেও, পরিবারটা যে পথে বসে যাবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। সত্যিকার অর্থেই যাঁদের আয় সীমিত, নিম্ন মধ্যবিত্ত বা দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ, তাঁদের অবস্থা সত্যিই করুণ। কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হলে অনেককেই চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় চলে যেতে হয় সুন্দর এ পৃথিবী ছেড়ে।

ব্যয় বাড়ায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে অনেক পরিবার। আবার ব্যয় বহন করতে না পেরে বাবা -মায়ের সামনে সন্তান, সন্তানের সামনে মা-বাবা মারা যাচ্ছে। চিকিৎসা আছে, অনেক টাকা দরকার। টাকাতো নেই, তাই বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে অনেকে।

পাল্লা দিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। বাড়ছে ডাক্তারের ফি, পরীক্ষা- নীরিক্ষার ফি, ওষুধের দাম। যে কারণে গরিব-নিঃস্ব পরিবারগুলোতে যেমন চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তেমনি সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেও চিকিৎসা ব্যয় মেটানো কষ্টদায়ক হয়ে ওঠেছে। প্রাইভেট চেম্বার অথবা বেসরকারি হাসপাতালেই শুধু নয়, সরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। সেই সঙ্গে আছে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচিকিৎসা। সব মিলিয়ে দেশের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠেছে। মানুষ চিকিৎসা করাতে গিয়ে রীতিমতো জমিজমা ভিটেবাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। দিনে দিনে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে তারা। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে রোগীরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেই ভয় পাবে, এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞগণ।

গ্রামে যারা থাকেন তারাতো উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে এমনিতেই বঞ্চিত। সেখানে ভাল ডাক্তার থাকতে চান না। পোস্টিং পাওয়া চিকিৎসক মফস্বলে না থেকে বেশি আয়ের জন্য চলে আসেন শহরে। সপ্তাহে একদিন গিয়ে সই করে চলে আসেন। তাই বাধ্য হয়ে রোগিদের আসতে হয় শহরে ডাক্তার স্যারের চেম্বারে। আবার সরকারি হসপিটালের বেশির ভাগ চিকিৎসক রোগিকে চেম্বারে (যে ক্লিনিকে বসেন) গিয়ে দেখা করতে বলেন। এতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও এনিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে শুনেছি।  কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত জরিপে জানা গেছে, দেশে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব ও গরিব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশই চিকিৎসা খরচ যোগান দিতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। জরিপে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, দেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় চার শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে যাচ্ছে শুধু মাত্র চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে। অন্যদিকে ধনী গরিব নির্বিশেষে ৬৪ শতাংশ মানুষকে পকেটের টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসার পেছনে মানুষের নির্ধারিত আয়ের বড় অংশ ব্যয় হওয়া ছাড়াও ভিটে মাটি, ফসলি জমি, গৃহপালিত পশু ও জরুরি ব্যবহার্য জিনিসপত্র বিক্রি, ঋণ করাসহ মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার মতো উপায় বেছে নিতে হচ্ছে। এই সংক্রান্ত সরকার পরিচালিত জরিপে জানা গেছে, প্রতিটি গরিব পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৯ শতাংশ আসে বিভিন্ন খাতে আয় থেকে, আর ২১ শতাংশ আসে জমানো টাকা থেকে।

চিকিৎসা হচ্ছে মানুষের একটা মৌলিক চাহিদা। এই চাহিদাটুকু পূরণ করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার তা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অর্থাৎ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার জন্য সরকার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলোতে মানুষ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। যা-ও সেবা পাচ্ছে তারা, তা কেবল অর্থের বিনিময়েই পেতে হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দেশের নাগরিকদের চিকিৎসার পেছনে সরকারের ব্যয় মাত্র ২৬ শতাংশ। এছাড়া আট শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় আসে দাতাদের কাছ থেকে। বিশেষজ্ঞগণ বলেন, শুধু ওষুধ কিংবা হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর পেছনের খরচই সাধারণ হিসাবে আসে। কিন্তু রোগীদের সঙ্গে পরিবার পরিজনের থাকা খাওয়া এবং যাতায়াতের বড় ধরনের ব্যয় হয়। সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হিসাবে ধরা হয় না। সেই অর্থ হিসাবে ধরলে চিকিৎসার পেছনে ব্যয়ের অংক অনেক বড় হয়ে যায়।

চিকিৎসার মতো, মানবিক স্পর্শকাতর ব্যাপারটিও রীতিমতো ব্যবসায় পরিণত হয়ে গেছে। বিশেষ করে, বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালে গরিব মানুষের কোনো জায়গা নেই বললেই চলে। আর সরকারি হাসপাতালেও এখন আর বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ নেই। সব জায়গায় এখন টাকা দিয়ে চিকিৎসাসেবা কিনতে হয়। এই বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। আমাদের চিকিৎসা ব্যয়কে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানুষের বিনামূল্যে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত ৯ বার বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যবসা বাণিজ্যেও পড়ছে এর বিরূপ প্রভাব। বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। ফলে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত নভেম্বর মাসে সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো হয়। বিল বাড়ানোর আগে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন করে। সেখানে ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ দাম না বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। কিন্তু সব মতামত উপেক্ষা করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। যা চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

ওই শুনানিতে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা প্রফেসর শামসুল আলম বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে দেখিয়েছেন, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ঘুষ লেনদেন আর লুটপাটের কারণে বিদ্যুৎ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আদর্শিকভাবে এ খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এ ছাড়া বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় ভোক্তারা বছরে স্যার হাজার ৮৪৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এসব বন্ধ করা গেলে দেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৫৬ পয়সা কমানো সম্ভব। বাম দলগুলোর পক্ষ থেকেও একই দাবি করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে অনেক দিন থেকেই জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী। দেশীয় বাজারেও ফার্নেস অয়েলের দাম কমানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে গেছে। দেশে গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমিয়ে উল্টো বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ কেন নেয়া হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। জানা কথা যে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে সব রকম দ্রব্যমূল্য ও সেবামূল্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আর শেষ পর্যন্ত তা বহন করতে হয় ভোক্তা সাধারণকে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের সামর্থ্য তথা জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের দাম কীভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় তা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যুতের মতো জরুরি প্রয়োজনীয় সেবা খাতের ব্যাপারে জনবান্ধব নীতি নিয়ে এগোবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

সরকারের যুক্তি হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিতরণের খরচ বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে মূল্য বাড়ানোর সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই বক্তব্যের যুক্তিকতা নেই। কুইকরেন্টালের অযৌক্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ সামনে এনে জনগনকে এভাবে নিষ্পেশনের কোনো মানে নেই। তাছাড়া বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সরকার বরাবরই ভর্তুকি দিয়ে আসছে। এখন হঠাৎ ব্যবসার মানসিকতা কেন তৈরি হলো সেটি বোধগম্য নয়।

আন্তর্জাতিক বাজার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যুতের দাম কমারই কথা, সেখানে উল্টো বাড়ানো হলো।

এমনিতেই রফতানি আয়ে আমরা ক্রমেই বাজার হারাচ্ছি। প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যোক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেনা বিশেষজ্ঞরা। কেননা আমরা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত নতুন চাপ তৈরি করবে।

তবে এ দাম বৃদ্ধি কোনো বিষয় হত না যদি চাহিদা মত গ্যাস-বিদ্যুৎ জনগণ পেতো। লোড শেডিংয়ের কারণে কলকারখানায় ঠিকমতো উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আবার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা পূর্ণ প্রেসারে পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুতে লোডশেডিং বাড়ছে। ফলে খরচ বেড়েছে।

এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার সাথে সাথেই জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে । সীমিত আয়ের লোকের ওপর এর প্রভাব পড়েছে বেশি । এরই মধ্যে বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে মালিকরা। যারা নিজস্ব এপার্টমেন্টে থাকেন তাদের সার্ভিস চার্জ বেড়েগেছে। পাশাপাশি গড় হারে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসবে জানুয়ারি থেকে। ফলে জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যাবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদও। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সেই হিসাবে বিদ্যুতের দাম কমানোর কথা, অথচ বাড়ানো হয়েছে। আর দেশীয় গ্যাস কোম্পানিগুলো লাভের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমেরও মন্তব্য একই। সম্প্রতি সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দর কম। সেটার সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা উচিত ছিল। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করা উচিত। তবে ভোক্তাপর্যায়ে যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ভোগ্যপণ্যের উৎপাদক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহার মতে, গ্যাস বিদ্যুতের দাম যতটা বাড়বে, পণ্যের উৎপাদন খরচ ততটাই বাড়বে। ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেশি। সরকার যদি তেলের দাম কমিয়ে সমন্বয় করে তাহলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের সঙ্গে সব খাত জড়িত। তাই বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সব কিছুর দাম বেড়ে যায়। এখন চালসহ নিত্য পণ্যের দাম অনেক বেশি। এমন সময়ে কাবিদ্যুতের দাম বাড়লে সব কিছুর মূল্য আরও বেড়ে যাবে।

সবাই একযোগে আপত্তি জানানোর পরও বিদ্যুতের বিল বাড়ানো হল। আগামী মাসে এ বিল দিতে গিয়ে আরেকদফা দুর্ভোগে পড়বেন নাগরিকরা।বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে বলে মনে হয়না। অকল্পনীয় হলেও সত্য যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ভোক্তা পর্যায়ে পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯ বাব বিদ্যুতের দাম বাড়ালো। এর আগে ২০১৫ সালে সেপ্টেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১ মার্চ গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ানো হয় ৫ শতাংশ। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাইকারি ও গ্রাহক দুই পর্যায়েই বাড়ানো হয়। এর মধ্যে পাইকারিতে ১১ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে ৫ শতাংশ। একই বছরের ১ আগস্ট পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানো হয় ৬.৬৬ শতাংশ। এছাড়া সে বছরের ১ ডিসেম্বর পাইকারিতে ১৬.৭৯ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৩.২৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়।

২০১২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পাইকারি পর্যায়ে ১৪.৩৭ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৭.০৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। এরপর ওই বছররের ১ সেপ্টেম্বর পাইকারি পর্যায়ে ১৬.৯২ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি পর্যায়ে ৬.৯৬ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাইকারি পর্যায়ে ২.৯ শতাংশ।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে প্রায় সব জিনিসপত্রের দামও দাউ দাউ করে বেড়ে গেছে।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। খরচ বাড়ছে জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বারবার বাড়ানোর ফলে সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পারিবারিক ব্যয়ে; বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে চালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরিব মানুষের জীবনযাত্রার মান বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। দিন দিন অসংখ্য মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে নেমে যাচ্ছে।

একটি পরিবারের স্থিরব্যয় যথা বাসাভাড়া, সন্তানের শিক্ষার খরচ, পরিবহন ব্যয়, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি এমনকি গৃহকর্মীর জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হয়। এখন স্থির ব্যয়ও অস্থির। মাছ, মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ডাল, চিনি, তেল এমনকি লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিষের দাম হু হু করে বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র রাজধানীতেই গেল কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৭১ শতাংশ। চালের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে না খেয়া থাকতে হচ্ছে মানুষকে।

যেখানে ২০০৬ সালে  মোটা চালের দাম ছিল ১৭.২০  টাকা এবং সরু চালের দাম ছিল ২৪.৫০ টাকা সেখানে টিসিবির মূল্য তালিকা অনুযায়ী ১২-১২- ১৭ তারিখে মোটা চালের দাম ছিল ৪৬ টাকা আর সরু  চালের দাম ৬৬ টাকা। যদিও বাস্তবে খুচরা বাজারে সব ধরণের চালের দাম টিসিবির দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫-৮টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।  নিম্ন  আয়ের মানুষের ব্যবহৃত মোটা চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল নগরীর তালিকার শীর্ষে রয়েছে এখন শায়েস্তা খানের ‘সস্তা’ ঢাকা শহর। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানও একইভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০১০ সালে যেখানে গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক গড় সঞ্চয় হতো ৫০০ টাকা, সেখানে ২০১৬ সালে পারিবারিক গড় দেনার পরিমাণ তিন হাজার টাকার উপরে (আয়-ব্যয় জরিপ)। এ বছরে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী সারা দেশে জীবনযাত্রার গড় ব্যয় বেড়েছে ৬. ৪৭ শতাংশ। আর এই বছরে পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৮১ শতাংশ।

মানুষ বাধ্য হয়ে পেটের লাগাম টানছে। ইতিমধ্যে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০৯ শতাংশ । পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ঠেকানোই যাচ্ছে না। আমদানি ও উৎপাদন কমের অজুহাতে এক বছরের মাথায় পেঁয়াজের দাম এরকম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, একমাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম  বাড়ানো হয়েছে ৫৩ শতাংশ।  অথচ ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, যা ১২-১২-২০১৭ তারিখে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা। ফলে বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অপরদিকে ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, যা ১২-১২-২০১৭ তারিখে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা। কোরবানির ঈদের পর থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। কিন্তু সরকারের কোনো সংস্থা তেমনিভাবে বাজার মনিটরিং করছে না। আর সমস্ত বোঝা গিয়ে পড়ছে ক্রেতা সাধারণের উপর।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মতে, দেশীয় পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা করছে। অন্যদিকে, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে দাম বাড়ার অজুহাত দেখানো হচ্ছে। শুধু চাল-পেঁয়াজ নয়, ডাল, লবণ, আটা, শাক-সব্জি ,মাছ, মাংস, মসলা, ভোজ্যতেলসহ সব নিত্যপণ্যের দাম ২০০৬ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মানুষকে কম খেয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে থাকতে হচ্ছে, লাখো মানুষ  দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। এখনি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ‘পাগলাঘোড়ার’ লাগাম টেনে ধরা না গেলে ক্ষুধার্ত নাগরিকের মিছিল আরো দীর্ঘ হবে।

লেখক: জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বিশ্লেষক

এখানে মন্তব্য করুন
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন

Check Also

মেয়েদের নিয়ে যে ১০টি ভুল ধারণা রয়েছে ছেলেদের!

নারী-পুরুষ তথা বিপরীত জেন্ডারের প্রতি আকর্ষণ প্রকৃতি প্রদত্ত। তবে নারী পুরুষের এই আকর্ষণের পাশাপাশি অনেক …