Breaking News
Home / কলাম / চাহিদা নেই তবুও আতপ চাল আমদানি: গচ্চা যাচ্ছে সরকারের ৪৩৭ কোটি টাকা

চাহিদা নেই তবুও আতপ চাল আমদানি: গচ্চা যাচ্ছে সরকারের ৪৩৭ কোটি টাকা

বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে সিদ্ধ চাল প্রসিদ্ধ। কিন্তু, সিদ্ধ চালের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই সঙ্কট চলছে। চালের বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এখন ফসলের মৌসুমেও প্রধান খাদ্য এই সিদ্ধ চারের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে দেশে আতপ চালের তেমন একটা চাহিদা নেই, সঙ্কটও নেই। তারপরও দফায় দফায় আতপ চাল আমদানি করছে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর। এতে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা প্রায় সাড়ে তিন লাখ মেট্রিকটন আতপ চাল দেশের মানুষ না খাওয়ায় কোনো খাতেই ব্যয় করতে পারছে না সরকার। এছাড়া ওএমএস কার্যক্রমে আতপ চালের দাম বৃদ্ধি ও ডিলারদের লোকসান হওয়ায় এই কর্মসূচিও চলছে ধীরগতিতে। এ অবস্থায় আগামী এক বছরেও মজুদ এই আতপ চাল বিক্রি করা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টদের। এতে প্রায় এক লাখ মেট্রিকটন চাল নষ্টের শঙ্কা রয়েছে। যার ফলে ৪৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা সরকারের গচ্চা যাবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতির সার-সংক্ষেপ পর্যালোচনা করে জানা যায়, এসব আতপ চাল ভারত থেকে প্রতি টন আনতে খরচ পড়ছে ৫১৮ দশমিক ৭০ ডলার, থাইল্যান্ড থেকে ৫০৫ দশমিক ৭০ ডলার, ভিয়েতনাম থেকে ৫২৬ দশমিক ৭০ ডলার, পাকিস্তান থেকে ৪৯১ দশমিক ৭০ ডলার এবং কম্বোডিয়া থেকে ৫৩০ দশমিক ৭০ ডলার। মিয়ানমার থেকে ৫২৭ দশমিক ৫০ ডলার। এই দাম দিয়ে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিকটন আতপ চাল আমদানি করেছে সরকার। ফলে ৫২৭ ডলার হিসেবে এক মেট্রিকটন চাল দেশে আনতে খরচ হয়েছে ৪৩ হাজার ৭৪১ টাকা। আর গড়ে এক লাখ মেট্রিকটন আতপ চালের জন্য খরচ হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এসব চাল বিক্রি না হওয়ায় এক লাখ মেট্রিকটন চাল নষ্ট হলে সরকারের প্রায় ৪৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা গচ্চা যাবে। তবে এই চাল আমদানির জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশে একাধিকবার সফর করলেও এখন কেউ এর দায় নিচ্ছেন না।
এবিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সারা বিশে^ চাল উৎপাদনকারী দেশের সংখ্যা খুবই কম। তার উপর ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশগুলো সিদ্ধ চাল বেশি উৎপাদন করে না। তাই আমরা যখন চাল আমদানি করি তখন আন্তর্জাতিক বাজারে আতপ চাল ছাড়া সিদ্ধ চাল পাওয়া যায়নি। ফলে আতপ চাল কিনেছি। এখন এই চাল ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণের চেষ্টা করছি। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের আতপ চাল খাওয়ার অভ্যাস না থাকায় এই চাল অন্য কোনো খাতেও ব্যয় করা যাচ্ছ না। দেশের মানুষ আতপ চাল খেতে অভ্যস্ত না এরপরও কেন এতো বেশি আতপ চাল কেনা হলো এবিষয়ে চানতে চাওয়া হলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধ চাল না পাওয়ায় আতপ চাল কেনা হয়েছে। আশা করি ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে এই চাল বিক্রি হয়ে যাবে। ডিলারদের লোকসানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে দুই হাজার ১০৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ আছে। তার মধ্যে কম-বেশি প্রতিদিন এক হাজার ৫০০ মেট্রিকটন চাল বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশে সিদ্ধ চালের মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়ার পরও সিদ্ধ চাল আমদানি না করে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে তিন লাখ মেট্রিকটন আতপ চাল আমদানি করে সরকার। এছাড়া এই চাল আমদানির আগে সরকারের কাছে আরও প্রায় ২০ হাজার মেট্রিকটন আতপ চাল মজুদ ছিল। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমেও ৫০ হাজার মেট্রিকটন আতপ চাল আমদানি করা হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের মানুষের আতপ চাল খাওয়ার অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও এতো আতপ চাল আমদানি করা হলো এ নিয়ে রহস্য রয়েছে। অবশেষে ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে এই চাল বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হলে তাতেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ওএমএস কার্যক্রম চালুর পর গত আড়াই মাসে সারাদেশে আতপ চাল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার মেট্রিকটন চাল। এরমধ্যে অনেকে এই চাল কিনেছে শীতের পিঠা বানানো ও খিচুড়ি খেতে।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতপ চাল বেশি দিন সংরক্ষণে রাখা যায় না। ৬ মাসের বেশি থাকলে এই চাল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। এছাড়া আতপ চালের ভাত সুস্বাদু হয় না, অন্যদিকে পেটেও অনেকক্ষণ থাকে না।
খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আতপ চাল নষ্টের শঙ্কায় এই চাল বেচতে ওএমএস ডিলারদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছে সরকার। এজন্য তাদের রেজিষ্ট্রেশন বাতিলেরও হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং ভবিষ্যতে আর কখনো সরকারি কোনো ডিলারশিপ না দেওয়ারও ভয় দেখাচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি গত ১৫ অক্টোবর থেকে ওএমএস কার্যক্রম বন্ধ করার কথা থাকলেও এ সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আতপ চাল বিক্রি শেষ না হওয়ায় এই কর্মসূচি চলমান রেখেছে সরকার।
আতপ চাল বিক্রির জন্য সারাদেশে ওএমএস ডিলার রয়েছে ২ হাজার ১০৫ জন। এতে দৈনিক চাল বিক্রি হওয়ার কথা ৪ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। তবে আতপ চাল বিক্রি কম হবে জেনে সরকার এবার ডিলারদের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। এরপরও তারা টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।
ওএমএস কার্যক্রম চালু হওয়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আতপ চাল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার মেট্রিকটন চাল। এ হিসেবে দৈনিক বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২৩৩ মেট্রিকটন চাল। এ গতিতে মাসে বিক্রি হবে ৩২ হাজার ৫৪ মেট্রিকটন। কিন্তু, বিক্রির এই হার প্রতিদিনই ক্রমান্বয়ে কমছে। অথচ ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৫৫ হাজার মেট্রিকটন আতপ চাল বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এভাবে এই চাল বিক্রি হলে আর কিছু দিন পরেই অনেক চাল নষ্ট হয়ে যাবে। খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যাবে আমদানি করা এই চাল।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কম দামেও আতপ চাল বিক্রি না হওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। এতো বেশি আতপ চাল কেনার দায় একে অপরের উপর দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমেই এই চাল বিক্রি করতে চাচ্ছে সরকার। কারণ, আর অন্য কোনো খাতে এই চাল দেওয়া যাচ্ছে না। টিআর কাবিখা, এমনকি ভিজিএফ কর্মসূচিতেও এই চাল গছানো যাবে না।
এবিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কায়কোবাদ হোসেন বলেন, দেশের ভয়াবহ বন্যায় অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য এই চাল আমদানি করা হয়েছিল। আতপ চাল কতদিন সংরক্ষণে রাখা যায় বলে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সিদ্ধ চাল ১ থেকে দেড় বছর সংরক্ষণে রাখা গেলেও আতপ চাল ৬ মাসের বেশি সংরক্ষণে রাখা যায় না। ফলে এখন আবার সিদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সরবরাহ, বন্টন ও বিপণন) কাজী নূরুল ইসলাম বলেন, ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশে সিদ্ধ চাল পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে এসব আতপ চাল কেনা হয়েছে। এখন ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে এই চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া পুলিশ বাহিনীকে কিছু চাল দেয়া যেত কিন্তু তারাও এই চাল নিতে নারাজ। তিনি বলেন, আতপ চাল হোক আর সিদ্ধ চাল হোক যেকোন ভাবেই ওএমএস কর্মসূচি চালু থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কাজী নূরুল ইসলাম বলেন, ওএমএস কর্মসূচি শুরুতে ১৫ অক্টোবরের পর বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পরবর্তী এই কর্মসূচি চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিলারদের ২ মেট্রিকটন চাল না দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওএমএস কর্মসূচিতে এবার শুধু আতপ চাল দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ আতপ চাল খেতে চাচ্ছে না। তাই এবার ডিলারদের ১ মেট্্িরকটন চাল দেয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে ঢাকা-৩ রেশনিং এলাকার কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, এর আগে ওএমএস চাল বিক্রির সময় ডিলারদের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও এবারের চিত্র পুরোপুরি উল্টো। মূলত তাদের লোকসান হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আতপ চাল খেয়ে অভ্যস্ত না, তাই কম দামে এই চাল বিক্রি করা হলেও মানুষ কিনছে না। এতে এক দিনের তোলা চাল দুই দিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। যারা একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষ তারাই শুধু আতপ কিনছে। মধ্যবিত্তরা কিনছে পিঠা বানানো ও খিচুড়ি খেতে ।
খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) নীতিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী শনিবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২ মেট্রিকটন চাল ও ১ মেট্রিকটন আটা প্রতিটি ওএমএস ডিলার বিক্রি করতে পারবে। অথচ এবার চাল বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ১ মেট্রিকটন। আতপ চাল হওয়ায় ১ মেট্রিকটন চালও বিক্রি করতে পারছে না ডিলাররা। জানা যায়, এর আগে ডিলারদের ২ মেট্রিকটন চাল ও এক মেট্রিকটন আটা দেয়া হতো। চাহিদার আলোকে কোনো কোনো সময় এর পরিমাণ আরো বাড়ানো হতো। এতে প্রতি কেজি চালে দেড় টাকা এবং প্রতি কেজি আটায় এক টাকা করে কমিশন পাওয়ায় প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা কমিশন পেত ডিলাররা। ফলে ট্রাক ও লেবারের খরচ বাদে ডিলারদের দৈনিক লাভ হতো এক থেকে দেড় হাজার টাকা। অথচ এবার বরাদ্দ ও বিক্রি কম হওয়ায় দৈনিক ২ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে ডিলারদের। বর্তমানে চালের বাজারে সঙ্কট এবং বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও তারা লোকসানের মুখোমুখি। এর একমাত্র কারণ, আতপ চাল। খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের দুর্নীতিবাজদের অপকর্মের বোঝা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাদের উপর চাপানো হচ্ছে। এতে তারা কিছু বলতেও পারছেন না। কারণ, তাতে ডিলারশিপ খোয়াতে হবে।
এবিষয়ে ঢাকা-৩ রেশনিং এলাকার নয়াবাজার জিন্দা মসজিদের ডিলার ইকবাল হোসেন বলেন, চলমান ওএমএস কর্মসূচিতে শুধু আতপ চাল দেয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই চাল খাচ্ছে না। ফলে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজির বেশি চালও বিক্রি হয় না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এক মেট্রিক টন চাল ও আটা বিক্রি হলেও লাভ হয় মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ একটি ট্রাকের পেছনে দৈনিক খরচ হচ্ছে কমপক্ষে চার হাজার টাকা। এতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা লোকসান যাচ্ছে। তিনি বলেন, এরপরও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওএমএস কর্মসূচি চালু রাখার জন্য বাধ্য করছে। চালু না রাখলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার হুমকি দিচ্ছে।
জানা যায়, একটি ট্রাকের দৈনিক ভাড়া ২ হাজার ৬০০ টাকা, দুজন লেবারের বেতন ১ হাজার টাকা, দুপুরে খাওয়া বাবদ ব্যয় হয় ৩০০ টাকা, গুদাম থেকে চাল ট্রাকে নিতে খরচ ১৫০ টাকা। সবমিলে ওএমএস কর্মসূচিতে দৈনিক খরচ ৪ হাজার ৫০ টাকা। অথচ সরকারের এক মেট্রিক টন চাল ও আটা বিক্রি করলে কমিশন পাওয়া যায় মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা। এতে ডিলারদের দৈনিক লোকসান হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ টাকা। এরপরও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভয়ে কর্মসূচি চালু রাখতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন, রাজধানীতে ২২০ জন ডিলার রয়েছে এরমধ্যে দেড় শতাধিক ডিলার ওএমএস কর্মসূচি চালাতে পারছে না।  এরপরও কর্মসূচি চালু রাখার জন্য সরকার নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। ওএমএস চালু না রাখলে রেজিস্ট্রশন বাতিলের হুমকি দিচ্ছে রেশনিং কর্মকর্তারা। ফলে অনেক কষ্টে ওএমএস কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
নীতিমালা অনুযায়ী খাদ্যশস্যের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা  দেওয়া এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখার জন্য ওএমএস কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তর  খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রির দাম নির্ধারণ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে। ওএমএসের চাল-আটা বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ করা থাকে। এসব ডিলারের কাজ তদারকির জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করে খাদ্য অধিদপ্তর। প্রতিটি অঞ্চলেই ডিলার বাছাই করার জন্য কমিটি থাকে। বিভাগীয় পর্যায়ে এসব কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার। কমিটিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনের  মেয়রের প্রতিনিধি থাকেন

এখানে মন্তব্য করুন
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন

Check Also

মেয়েদের নিয়ে যে ১০টি ভুল ধারণা রয়েছে ছেলেদের!

নারী-পুরুষ তথা বিপরীত জেন্ডারের প্রতি আকর্ষণ প্রকৃতি প্রদত্ত। তবে নারী পুরুষের এই আকর্ষণের পাশাপাশি অনেক …