Breaking News
Home / কলাম / বাংলাদেশ : ‘এগোনো আর টেনে ধরা’ -গোলাম মোর্তোজা

বাংলাদেশ : ‘এগোনো আর টেনে ধরা’ -গোলাম মোর্তোজা

বাংলাদেশে তো বটেই, দেশের বাইরেও যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম এখনও অক্ষুণœ আছে, সেটা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বহু গুণিজনের জন্ম দিয়েছে বুয়েট। অনেক বছর আগে বুয়েটের একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ‘পথের বাধা সরিয়ে নিন, মানুষকে এগোতে দিন’।
একথা বলার পরে এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। ড. ইউনূস ও তার গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্মান অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং দেশের সাধারণ জনমানুষের ভেতরে তার খ্যাতি-সম্মান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশীয় রাজনীতির একটা অংশ পাল্লা দিয়ে তাকে অসম্মানিত করার চেষ্টা করেছেন। এত বছর পরে এসে, ২০১৭ সালের বিজয় দিবস সংখ্যা ‘সাপ্তাহিক’-এ দেয়া সাক্ষাৎকারে ড. আকবর আলি খান বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষ এগোয়, রাজনীতিকরা টেনে ধরে।’
স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স এখন ৪৬ বছর। এখনও বাংলাদেশ ‘পথের বাধা’ ‘এগিয়ে যাওয়া’ টেনে ধরা’ কেন্দ্রীয় আলোচনায় আটকে আছে। কেন এখনও এসব বিষয় আলোচনায়। সমস্যাটা কোথায়, সমাধানই বা কী?
আলোচনার দুটি ভাগ। সাধারণ মানুষ এবং রাজনীতিবিদ, নীতি-নির্ধারক, যারা দেশ পরিচালনা করেন।
ড. ইউনূস ও ড. আকবর আলি খানের মূল বক্তব্য, সাধারণ জনমানুষের শক্তি অপরিসীম। ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে, মানুষ এগিয়ে যায় বা এগিয়ে যেতে পারে। মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে নীতিনির্ধারক বা দেশ যারা পরিচালনা করে, তারা যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। দেশ পরিচালনা করেন রাজনীতিবিদরা। যদিও স্বাধীনতার পর একটা লম্বা সময় দেশ পরিচালনা করেছে সামরিক শাসকরা। সামরিক সরকার, রাজনৈতিক সরকার, ভোটে নির্বাচিত সরকার, অনির্বাচিত সরকার, সবাই বলেছেন তারা ‘মানুষের জন্যে কাজ করতে বা মানুষের সেবা’ করতে এসেছেন। এই কাজ করতে আসা বা সেবা করতে আসা, দেশ পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, তারা এগিয়ে যাওয়া মানুষকে টেনে ধরছেন। স্বাভাবিক গতিতে সাধারণ মানুষকে এগুতে দিচ্ছেন না।
এ প্রেক্ষিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
১. বাংলাদেশের যে মুক্তির সংগ্রাম, সেই সময়ের চিত্রটা কিন্তু এমন ছিল না। এমন প্রশ্নই তখন ছিল না। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে সাধারণ মানুষের যুদ্ধে রাজনীতিকরা বাধা হয়ে দাঁড়াননি। রাজনীতিকরাও ছিলেন সাধারণ মানুষের কাতারেই। সামরিক, বেসামরিক আমলাতন্ত্রও সাধারণ মানুষের থেকে দূরে ছিল না। স্বাধীন দেশে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনীতিবিদরা আলাদা হয়ে গেছেন। ১৯৭১ সালে সাধারণ মানুষ আর রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এককাতারে থেকে যুদ্ধ করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতিকরা নিজেরা নিজেদেরকে ‘সেবক’ ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছেন। এককাতার থেকে এই যে, ‘সেবকে’ উন্নীত করে, মূলত ব্যবধানটা তৈরি করা হয়েছে। রাজনীতিকরা জনগণ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। ‘সেবক’র আড়ালে নিজেদের ‘মালিক’ বা ‘রাজা’ ভাবতে শুরু করেছেন। সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার নিয়ন্ত্রকে পরিণত করেছেন নিজেদেরকে। সাধারণ মানুষের কথা বলে, মূলত তারা নিজেদের সুবিধার জন্যে প্রায় সব কিছু করেছেন। রাজনীতিকদের অসততা, সাধারণ জনমানুষের কাছে দৃশ্যমান হয়ে গেছে।
আর এই সুযোগটাই নিয়েছে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র। বিশেষ করে সামরিক শাসকরা পাকিস্তানি স্টাইলে দেশ শাসন করার সুযোগ পেয়ে গেছে। রাজনীতিবিদদের সহযোগিতায় সামরিক বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। বেসামরিক আমলাতন্ত্র বেনিফিশিয়ারি হিসেবে সামরিক আমলাতন্ত্রের সঙ্গে মিলেমিশে গেছে। সাধারণ জনমানুষের সামনে রাজনীতিবিদদের অসততার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্র হননের পরিকল্পনা থেকে করা হলেও, তা অসত্য ছিল না। ফলে রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের একটা বিতৃষ্ণা জন্ম হয়েছে।
পরিণতিতে যখন যে সামরিক সরকার এসেছে, সাধারণ মানুষের আকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছে।
২. ১৯৭১ সালে যে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ছিল, স্বাধীনতার পর থেকে তা অশ্রদ্ধায় পরিণত হতে শুরু করে। ক্রমশ যা শুধু বাড়ছেই। সাধারণ মানুষ মনে করতে থাকে, তার যা পাওয়ার কথা- তা তিনি পান না রাজনীতিবিদদের কারণে। তার যা করার কথা, তা তিনি করতে পারেন না রাজনীতিবিদদের কারণে। যেমন-
ক. মন্ত্রী-এমপিদের মাধ্যমে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে যে চাল-গম, বিস্কুট সাহায্য এসেছিল সাধারণ মানুষের জন্যে, তা সাধারণ মানুষ পাননি। মন্ত্রী-এমপিরা বিদেশ থেকে আসা সাহায্যের একটা অংশ আত্মসাৎ করেছেন। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে আসার পর, তারা কিছু আত্মসাৎ করেছেন। সাধারণ মানুষ পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে কিছু পৌঁছেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুই পৌঁছায়নি। স্বাধীনতার পরে রাজনীতিবিদরা নিজেদের ‘সেবক’-এ উন্নীত করে এই দায় নিয়েছেন।
খ. সামরিক সরকারগুলোর সময়, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র এমন কর্মের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। পরে রাজনীতিবিদদেরও এই অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নিয়েছে সামরিক শাসকরা। বঞ্চিত হয়েছে সেই সাধারণ মানুষই।
গ. সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতিবিদ-বেসামরিক-সামরিক আমলাতন্ত্র হয়ে গেছে ‘প্রতিপক্ষ’।

৩. কৃষক ব্যাংক থেকে ঋণ চায়, সরকারি ব্যাংক ঘুষ ছাড়া ঋণ দেয় না। শিল্পপতি ঋণ চায়, তাকেও ঘুষ দিতে হয়। যারা ঋণ নিয়ে ফেরত দেবে না, ঘুষের বিনিময়ে সবচেয়ে সহজে ঋণ পেয়ে যায় তারা। লক্ষ কোটি টাকা তারা ঋণ নেয়, ফেরত দেয় না। যারা ঋণ নিয়ে নিজের এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান, তারা ঋণ বা সহায়তা পান না। সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা যায়, তাতে শুধু পুনরাবৃত্তিই হবে। দৃষ্টান্ত না দিলেও, এই বাস্তবতা কারও পক্ষে স্বীকার করা সম্ভব নয়।

৪. কৃষকের উৎপাদনের জন্যে বীজ সার কীটনাশক দরকার। বহু বছর পর্যন্ত সরকার তা দিতে পারেনি। এখন তা নিশ্চিত করেছে সরকার। কৃষক উৎপাদনও করছে। কৃষকের উৎপাদন এবং রাষ্ট্রের নীতিতে যে একটা সমন্বয় থাকার কথা, তা নেই। রাজনীতিবিদরা তার প্রয়োজনই মনে করছেন না। প্রতি বছর চাহিদার চেয়েও বেশি পরিমাণ আলু উৎপাদন করেন কৃষক। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে কৃষককে আলু বিক্রি করতে হয়। কয়েক’শ মণ আলু প্রতি বছর পচে যায়, বিক্রি করতে পারেন না কৃষক। কৃষকের থেকে আলু কিনে তাকে ন্যায্য মূল্য দেয়ার নীতি নিতে দেখা যায় না সরকারকে।
দেশের আলু পচে যায়, আবার ভারত থেকে মৌসুমের অল্প আগে আলু এসে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। যেন দেখার কেউ নেই।
ধান উৎপাদন করে কৃষককে বিক্রি করতে হয়, উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে। পাট উৎপাদনে লোকসান দিতে দিতে এখন উৎপাদনই ছেড়ে দিয়েছে। কৃষককে দাম দিতে পারেনি, পাটকলগুলোও চালু রাখতে পারেননি সরকার। কৃষক বাধ্য হয়ে সবজিসহ অন্য ফসলের দিকে চলে যাচ্ছে। ধানের উৎপাদন প্রতিবছর কমছে। চালের সংকট তীব্র হচ্ছে, দাম বাড়ছে।

৫. ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে অর্থ নিয়ে রাজীনীতিবিদ ও তাদের সহযোগীরা বিত্তবান হয়। সরকার দেখে, বিত্ত টিকিয়ে রাখায় সহায়তা করে। চাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। কয়েক লাখ সরকারি কর্মকর্তার বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করে, সরকার নিজেই নিজেকে বাহবা দেয়। করের পরিমাণ বাড়ে। কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কথা রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারের ভাবনাতেই থাকে না।

৬. সৌদি আরবের মরুভূতিতে বা মালয়েশিয়ার পাম বাগানে রক্ত পানি করে আয় করা যে অর্থ দেশে পাঠান প্রবাসীরা, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সেই অর্থ চুরি হয়ে যায়। পাম বাগান থেকে আয় করা অর্থ চুরি করে, কুয়ালালামপুরে নিয়ে যায় বিত্তবানরা। পাম বাগানের কর্মীরা কুয়ালালামপুরের দূতাবাসের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন, ভেতরে ঢোকারও সুযোগ পান না।

৭. বিত্তবান প্রবাসীদের অনেকে দেশে বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় অসৎ প্রশাসন তাদের সহায়তা তো করেই না, ঘুষ চায়। তাদের অধিকাংশই কিছুদিন ঘুরে আবার ফিরে চলে যান বিনিয়োগ না করে।
একজন জাপান প্রবাসী জাপানি টোয়োটা, প্যানাসনিক, কোরিয়ান হুন্দাই’র সিইওসহ বড় বড় প্রায় ১৫টি কোম্পানির বড় কর্তাদের নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
সরকারের দুই বড় কর্তার রশি টানাটানির মধ্যে পড়ে, ব্যর্থ হয়ে তারা ফিরে গেলেন। তাদের অনেকে এখন মিয়ানমারে বিনিয়োগ করেছেন।
জাপান প্রবাসী বাঙালি, যিনি আফ্রিকার কেনিয়া-উগান্ডায় বিনিয়োগ করেছেন। তার ভাষ্য আফ্রিকার এসব দেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া যায়। আর নিজের দেশ বাংলাদেশে রাজনীতিবিদ-আমলা সবাই শুধু ঘুষ চায়।

৮. এই চিত্রের বাইরের বাংলাদেশ তো এগিয়েছে। ওষুধ শিল্প ক্রমশ বড় হচ্ছে। শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে কৃষক উৎপাদন করছেন। পোশাক শিল্প সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার দিনেও প্রবাসী কর্মীরা দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। প্রবৃদ্ধি কমছে না, অল্প হলেও বাড়ছে। ব্রিজ, রাস্তা, ফ্লাইওভারের মতো অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, মানুষে মানুষে বৈষম্য বাড়ছে। তবুও জীবন চলছে।
জীবনকে চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। কৃষক উৎপাদন করছেন। কৃষকের সন্তান পোশাক শিল্পের কর্মী। যারা খুব অল্প বেতনে কাজ করছেন। কৃষকের সন্তানই প্রবাসী কর্মী। যারা অনবরত অর্থ পাঠাচ্ছেন দেশে।
আর সরকার গরিব মানুষের বিপরীতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয়ের এবং ঋণের অর্থের ব্যয় হচ্ছে বেহিসেবিভাবে। জালিয়াতি-চুরি-লুট হয়ে যাচ্ছে সেই অর্থ। প্রতি বছর শুধু পাচারই হয়ে যাচ্ছে কমপক্ষে ৭৬ হাজার কোটি টাকা।

৯. এত কিছুর পরেও বাংলাদেশ টিকে আছে, এগিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের কারণে। সরকারের যে কাজগুলো করার কথা ছিল, তা করছে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে, রাজনীতিবিদ-আমলা-ব্যবসায়ীরা নিজেদের সন্তানদের দেশে বিদেশি স্কুলে, এবং বিদেশে পড়াচ্ছেন। ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে সরকার-রাজনীতিবিদ-আমলারা। সরকার এখন জনমানুষের ভোগান্তি আর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিবিদ বা দেশ পরিচালনাকারীরা যদি মানুষের পাশে থাকতেন, প্রতিবন্ধকতার পরিবর্তে সহায়তা করতেন, সত্যি সত্যি বাংলাদেশ এগিয়ে যেত বহুদূর। রাজনীতিবিদরা যদি নিজেদের ‘সেবক’ শ্রেণিতে নিয়ে ‘রাজা’ ভাবার অবস্থান থেকে নেমে না আসেন, তবে সাধারণ মানুষের শক্তিতে এগিয়ে যাওয়া কতটা টেকসই হবে- সন্দেহ থেকে যায়।
১৯৭১’র মতো মানুষের কাতারে ফিরে না এলে, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে না দিলে, সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিদদের ‘প্রতিপক্ষ’ ভাবার অবস্থান থেকে সরে আসবেন বলে মনে হয় না।
কাক্সিক্ষত যে লক্ষ্য সেখানে পৌঁছানো যাবে না। মানুষকে এগিয়ে যেতে দিতে হবে, সরকারকে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বা টেনে ধরা কেন্দ্রিক আমলাতান্ত্রিক মালিক বা রাজাসুলভ মানসিকতা পরিত্যাগ করতে হবে।

এখানে মন্তব্য করুন
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন

Check Also

মেয়েদের নিয়ে যে ১০টি ভুল ধারণা রয়েছে ছেলেদের!

নারী-পুরুষ তথা বিপরীত জেন্ডারের প্রতি আকর্ষণ প্রকৃতি প্রদত্ত। তবে নারী পুরুষের এই আকর্ষণের পাশাপাশি অনেক …