মৃত সন্তান প্রসব ঠেকাতে মায়েদের যে পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা!
মৃত সন্তান প্রসব ঠেকাতে মায়েদের যে পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা!

মৃত সন্তান প্রসব ঠেকাতে মায়েদের যে পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা!

মৃত সন্তান প্রসব প্রতিরোধে সন্তানসম্ভবা নারীদেরকে একপাশে কাত হয়ে শোওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গর্ভধারণ কালের শেষ তিন মাস সম্ভাব্য মায়েদেরকে এভাবেই ঘুমাতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ব্রিটেনে প্রায় এক হাজার নারীর ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পিঠের ওপর চিৎ হয়ে ঘুমালে মৃত শিশু জন্মদানের ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

গবেষণায় ২৯১ জন গর্ভবতী নারীর উপর নজর রাখা হয়েছিলো যারা মৃত শিশুর জন্ম দিয়েছেন এবং ৭৩৫ জন নারী জন্ম দিয়েছে জীবিত শিশুর।

এই সমীক্ষার পর গবেষকরা বলছেন, নবজাতকের স্বাস্থ্যের সাথে সম্ভাব্য মা কিভাবে ঘুমাচ্ছেন তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এবং ঘুমানোর এই ভঙ্গিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তারা এও বলছেন, ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর সন্তানসম্ভবা নারী যদি দেখেন যে তারা তাদের পিঠের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন তাহলে দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়।

ব্র্যাডফোর্ডের একজন নারী গ্রেইস, প্রেগনেন্সির ৩৫ সপ্তাহের মাথায় তার সন্তানকে হারিয়েছেন। তিনি বলছেন, “আমি জানতাম কিছু একটা ভুল হয়েছে। একদিন ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারলাম কিছু একটা হয়েছে। আমি হাসপাতালে ছুটে গেলাম। তারা মনিটর অন করে সেখানে শিশুর হার্টবিট খুঁজে পেল না। আমার জীবনের খুব কষ্টকর মুহূর্ত ছিলো সেটি- যখন দেখলাম আমার সন্তান তার জন্মের আগেই মারা গেছে।”

গ্রেইস এখনও জানেন না কি কারণে তার গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছিলো। খবর বিবিসি বাংলার।

যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে ২২৫টি গর্ভধারণের ক্ষেত্রে একটি মৃত শিশুর জন্ম হয়। বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য মা যদি একপাশে কাত হয়ে ঘুমাতে যান তাহলে বছরে ১৩০টির মতো নবজাতকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

ব্রিটিশ জর্নাল অফ অবসটেট্রিক্স এন্ড গাইনোকলজি এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে।

এর আগে নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের গবেষণাতেও সন্তানসম্ভবা মায়েদেরকে প্রায় একই রকমের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো।

ম্যানচেস্টারে এই গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক প্রফেসর আলেকজান্ডার হেজেল এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, গর্ভবতী নারীদেরকে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে সেটি হলো- তারা কি পজিশনে ঘুমাতে গিয়েছিলেন।

“এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই অবস্থানেই তিনি সবচেয়ে বেশি সময় কাটান। আর ঘুম থেকে উঠার পর নিজেকে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে দেখলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ ওই পজিশন নিয়ে কিছু করার আর কোন সুযোগ নেই। কিন্তু কি পজিশনে ঘুমাতে যাচ্ছেন সেবিষয়ে নারীরা অনেক কিছু করতে পারেন।

চিৎ হয়ে কিম্বা উপুড় হয়ে ঘুমালে মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি কেন বেড়ে যায় সেবিষয়ে গবেষকরা এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে- নারীরা যখন পিঠের উপর শুয়ে থাকে তখন শিশু এবং গর্ভাশয় এই দুটোর মোট ওজন রক্তনালীগুলোর ওপর চাপ তৈরি করে। এর ফলে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে রক্ত এবং অক্সিজেনের প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে।

একপাশে কাত হয়ে কিভাবে ঘুমানো যায় তার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা:

► আপনি যখন ঘুমাতে বিছানায় যাবেন তখন আপনার পিঠের পেছনে কয়েকটি বালিশ রেখে দিন যাতে একদিকে কাত হয়েই ঘুমাতে হয়।

► রাতের বেলা হঠাৎ যদি আপনার ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে একবার দেখে নিন আপনি কি পজিশনে ঘুমিয়ে আছেন, তারপর আবার একপাশে কাত হয়ে ঘুমাতে চলে যান।

► দিনের বেলায় ঘুমাতে গেলেও, যদি সেটা খুব অল্প সময়ের জন্যেও হয়, তখনও আপনি রাতের বেলায় ঘুমাতে যাওয়ার মতো শরীরের পজিশনকে গুরুত্ব দিন।

► ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর যদি দেখেন চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন, তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সাথে সাথেই একপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়ুন।

► তবে ডান দিকে বা বাম দিয়ে কাত শোওয়ার মধ্যে গবেষণায় কোন পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

এখানে মন্তব্য করুন
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন

Check Also

কিডনি বিকল করে ফেলে কামরাঙ্গা!

কিডনি বিকল করে ফেলে কামরাঙ্গা!

আমাদের দেশে টক জাতীয় কিছু ফলের মধ্যে কামরাঙ্গা অন্যতম। এই ফলে আছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, …