কে হতে যাচ্ছে প্রধান বিচারপতি? হাসিনা চায় বাইরের লোক বসাতে!
কে হতে যাচ্ছে প্রধান বিচারপতি? হাসিনা চায় বাইরের লোক বসাতে!

কে হতে যাচ্ছে প্রধান বিচারপতি? হাসিনা চায় বাইরের লোক বসাতে!

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহাকে নিয়ে কেলেঙ্কারী শেষ হয়নি। গত ২ অক্টোবর বিচারপতি সিনহার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ছুটির কাগজে সই নিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার পরে গত ১০ নভেম্বর তার স্বজনদের ক্রসফায়ারের ভয় দিয়ে নেয়া হয় পদত্যাগপত্রে সই। কিন্তু সেই পদত্যাগপত্র নিয়ে এখনও সমাধানে আসতে পারেনি বর্তমান বিনাভোটের সরকার। কেননা ঐ পদত্যাগপত্র দিয়ে কাজ করতে আইনগত সমস্যা আছে। এরই ভিতরেই আলোচনা চলছে কে হবেন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি?

প্রায় সকলেই বলছেন, প্রধান বিচারপতি হবেন বর্তমান অস্থায়ী/ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। তাদের ধারনা, ইতোমধ্যে তিনি শেখ হাসিনার আস্থায় আসতে পেরেছেন। যদিও ওয়াহ্হাব মিঞা ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনার সময়ে হাইকোর্টে বিচারপতি হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আওয়ামীলীগের লোক নন। বরং তাঁর পরিবার মুসলিম লীগার হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তদুপরি অনেক মামলায় তাঁর রায় গেছে জামায়াতে ইসলামির পক্ষে। এসব কারনে ওয়াহ্হাব সাহেব প্রধান বিচারপতি হতে পারছেন না, এমনটাই ছিল এতকাল ধারনা ছিল সবার। কিন্তু বিচারপতি সিনহার সাথে সরকারের জটিলতা তৈরী হওয়ার পরে বিচারপতি ওয়াহ্হাবকে দ্রুতই আস্থায় নেন শেখ হাসিনা। তাঁকে দেয়া হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ভার। এরপরে এটর্নী জেনারেল ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে বিচারপতি ওয়াহ্হাবের। এতে করে সরকারের সঙ্গে বৈরী অবস্থার খানিকটা অবসান হয়েছে। তবে বিশেষ এক মাধ্যমে জানা গেছে, বিচারপতি ওয়াহ্হাবের সঙ্গে শেখ হাসিনার একাধিক বৈঠক হয়েছে। এদের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছে এ সপ্তাহে, দু’ঘন্টার। এতে করে ঠিক হয়েছে শেখ হাসিনা বিচারপতি ওয়াহ্হাবকে প্রধান বিচারপতি বানাবেন, তবে ওয়াহ্হাব সাহেবও সরকারের অনুরোধমত কাজগুলি করে দেবেন। এদের মধ্যে আছে ষোড়শ সংশোধানীর রায় রিভিউ করে কাটছাট করা, মাঠ বিচারকদের প্রশাসন সুপ্রীম কোর্টের অধীনে নেয়ার বিষয়ে ছাড় দেয়া, বিচারপতি সিনহার ইস্যুতে সরকারের ব্যবস্থার সাথে দ্বিমত না করা ইতাদি। তবে ২২ আগস্টের ১৫৪ জন সংসদ সদস্যকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া গ্যাগ অর্ডার রায় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। কেননা ৭ বিচারপতির সই করা মূল রায়টি রয়ে গেছে বিচারপতি সিনহার কাছে। ধারণা করা হচ্ছে, রায়টি বাস্তবায়ন অথবা সংসদ ভেঙ্গে ;তেই হচ্ছে।

এমতাবস্থায়,ওয়াহ্হাব মিয়া প্রধান বিচারপতি হওয়ার আশা দেখলেও বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। হাসিনা এখনই বিচারপতি ওয়াহ্হাবকে নিয়োগ দিচ্ছে না। তাকে আশায় ঝুলিয়ে রেখে কাজগুলো হাসিল করতে চায়। তবে সিনহা বাবুর পদত্যাগপিত্র জটিলতা আর বেশিদিন ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হলে অবিলম্বে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।

তবে বিচারপতি ওয়াহ্হাবকে প্রধান বিচারপতি না করা হলে এর পরের সিরিয়ালে আছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। রাষ্ট্রপতি চাইলে তাঁদের মধ্য থেকে যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। এরমধ্যে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এর আগেই সরকারের অত্যন্ত আস্থাভাজন পরিচয় দিয়েছেন ২টি নির্বাচন কমিশন বাছাই করে। বর্তমান নূরুল হুদা কমিশন এবং এর আগের রকিব কমিশন বাছাই করেছেন এই মাহমুদ হোসেন।

তবে জানা গেছে, প্রধান বিচারপতি হিসাবে হাসিনার পছন্দ অন্য এক ব্যক্তি। তার নাম আজমালুল হক কিউসি। এই আইনজীবি হাসিনার খুব বিশ্বস্ত। হাসিনার ইচ্ছা অনুসারে সুপ্রিমকোর্টের অনেক গুরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক রাজনৈতিক মামলার রায় লিখে দিয়েছেন আজমালুল। এমনকি শোনা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় তৈরী করে রেখেছেন আজমালুল কিউসি। ইনি এমনই পা-চাটা যে, ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে এমিকাস কিউরির সাজেশন্স দিয়েছিলেন তিনি। কিউসি বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান বিরোধী। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুট হওয়ার পরে কিউসিকে আইনজীবি নিয়োগ করে হাসিনা। প্রথমে খুব লম্বা লম্বা বক্তৃতা দেয় আজমালুল- নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করবো। পরে ধীরে ধীরে সব ধামাচাপ দেন তিনি। তাকে চেনানোর বোধ হয় আর প্রয়োজন নেই।

হাসিনা চায় ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে আজমালুল কিউসিকে নিয়োগ করতে। কিন্তু কি করে করবে? কিউসি তো আর বিচারপতি নয়। সেই কারনে হাসিনা চায়, সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী করে আপলী বিভাগের বাইরে থেকেও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করার বিধান তৈরী করতে। অবশ্য যদি সময় সুযোগ পাওয়া যায়, তবে।

এখানে মন্তব্য করুন
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন

Check Also

হাইড্রোলিক হর্ন উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

হাইড্রোলিক হর্ন উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকাগুলোতে রাত ১০টার পর ২০ কিলোমিটারের অধিক গতিতে গাড়ি না চালানোর …