ক্রসফায়ারের ভয় দিয়ে নেয়া বিচারপতির সিনহার পদত্যাগপত্র মহা সংকটে!
ক্রসফায়ারের ভয় দিয়ে নেয়া বিচারপতির সিনহার পদত্যাগপত্র মহা সংকটে!

ক্রসফায়ারের ভয় দিয়ে নেয়া বিচারপতির সিনহার পদত্যাগপত্র মহা সংকটে!

ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে গত আগস্ট থেকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সাথে ক্ষমতাসীন বিনাভোটের সরকারের টানাপোড়েন চলছে। এর চুড়ান্ত রূপ ধারন করে অক্টোবর মাসের শুরুতে যখন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের (সাভার ডিভিশন) জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেনের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী বিচারপতি সিনহার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছুটির দরখাস্তে সই নেয়। পরে ঐ দরখাস্ত ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিচারপতি সিনহাকে জোরপূর্বক ছুটিতে ও পরে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এর আগে গত ২২ আগস্ট বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বে পূর্নাঙ্গ আপীল বিভাগ বর্তমান সংসদের বিনাভোটের ১৫৪ জন সদস্যকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়, এবং সেটির ওপর গ্যাগ অর্ডার দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেয়।

ফোর্স লিভ শেষে ১০ নভেম্বর বিচারপতি সিনহা যখন দায়িত্ব নেয়ার জন্য দেশে প্রত্যাবর্তন করার চেষ্টা করেন, তখন তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে এয়ারলাইন্সগুলিকে নির্দেশনা জারী করে সরকার। বিচারপতি সিনহার দু’জন ঘনিষ্ট আত্মীয় (ছোট ভাই এবং শ্যালককে) জিম্মি করে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা, এর আগে পারিবারিক বন্ধু কূটণীতিক অনিরুদ্ধ রায়কে আটক করে। এদেরকে মারপিট ও নির্যাতন করে বিচারপতি সিনহার উপরে চাপ প্রয়োগ করা হয় পদত্যাগের জন্য। সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধতন কর্তারা সিনহাকে উপর্যুপরি চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সিনহার ভাই ও শ্যালককে ক্রস ফায়ারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় শুক্রবার মধ্য রাতে। এ অবস্থায় সেখান থেকে ফোনে ধরিয়ে দেয়া হয় সিনহার স্ত্রী সুষমাকে। অবশেষে সিনহার ভাই ও শ্যালকের জীবন বাঁচানোর জন্য সিনহাকে পদত্যাগ করতে বলেন স্ত্রী, অন্যথায় তিনি সুইসাইড করার হুমকি দেন। অতঃপর সিনহা বাধ্য হন পদত্যাগ পত্রে সই করতে।

অতি উৎসাহী গোয়েন্দারা সাথে সাথেই বিষয়টি ঢাকায় মিডিয়াকে জানিয়ে দেয়। ফলে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে দেশের তিনটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ দেখায়- বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করেছেন, অথচ তখনও পদত্যাগ পত্র দেশে আসেনি। পরের দিন শনিবার সকালে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছে বঙ্গভবন। পরক্ষণেই জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহন করেছেন। কিন্তু পরবর্তী তিন তিনেও এর কোনো গেজেট হয়নি বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

জানা গেছে, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগ নিয়ে জটিল সংকটে পড়ে গেছে সরকার। এর কারন হচ্ছে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের দু’টি রায়।

প্রথমত: পদত্যাগ সংক্রান্ত আপীল বিভাগের একটি রায়ে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র নিজে উপস্থিত হয়ে জমা দিতে হবে। ১৯৯৪ সালে সংসদ সদস্যদের গণপদত্যাগের পরে পদত্যাগ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের এরূপ একটি রায় দেয়া হয়েছে। এবং এটি অনুসরণ করা হচ্ছে।
ফলে বিচারপতি সিনহাকে পদত্যাগ করতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজ হস্তে লিখিত পদত্যাগ পত্র জমা দিতে হবে, অন্যথায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির নিকট জমা দিতে হবে। দূতাবাসের মাধ্যমে বা বিদেশ থেকে ইমেইলে এনে বা কোনো আত্মীয় স্বজনের মারফত কোনো কাগজ এনে পদত্যাগ করানো যাবে না। প্রধান বিচারপতির মত সর্বোচ্চ পদাধিকারীর পদত্যাগের জন্য যেনো তেনো উপায় অবলম্বন করা যায় না।

দ্বিতীয়তঃ ষোড়শ সংশোধনীর চুড়ান্ত আপীল রায় অনুসারে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের কোনো সুযোগ নাই। কেননা ঐ রায়ে আপিল বিভাগ পদত্যাগ সংক্রান্ত ৯৬(৪) অনুচ্ছেদটি বাতিল করে দিয়েছে। তা ছাড়া ৯৬(১) অনুচ্ছেদও বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে এখন থেকে ৬৭ বছরে বিচারপতিদের অবসর হবে না। বরং আমৃত্যু বিচারপতি থাকতে পারবেন।

এ অবস্থায়, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছ থেকে যে পদত্যাগপত্র নেয়া হয়েছে বলে সরকার দাবী করেছে, তা যথাযথ পদ্ধতিতে নেয়া হয়নি। তাছাড়া ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের পরে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ করার কোনো আইন নাই। ফলে, বিচারপতি সিনহার কথিত পদত্যাগ মাঠে মারা যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। সে কারনেই এ নিয়ে সরকারের কার্যক্রমে ধীরগতি। আর যদি এর পরেও অবৈধ সরকার ঐ পদত্যাগপত্র ব্যবহার করে গেজেট জারী করে, তা হবে আইনের ব্যতয়, এবং অবৈধ হবে। তাহলে ভবিষ্যতে অনুরূপ অবৈধ প্রকৃয়া অবলম্বন করে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করানো সম্ভব হবে।

সুত্রঃ বিডি পলিটিকো

এখানে মন্তব্য করুন
শেয়ার করতে আপনার একাউন্ট আইকণে ক্লিক করুন

Check Also

মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্ত বিদ্যমান: খালেদা জিয়া

মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্ত বিদ্যমান: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘৫ জানুয়ারি ২০১৪-তে প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য …